সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর যেমন ছিল বঙ্গভবনের সামনের দৃশ্য
মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বঙ্গভবনের সামনে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। সেই সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীরাও বঙ্গভবনের বাইরের সড়কে ভিড় করেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল পাঁচটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনে এমন দৃশ্যই ছিল।
বঙ্গভবনের সামনের ব্যারিকেড ছুঁয়ে অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। ব্যারিকেডের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সে কারণে ব্যারিকেডের আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দ্বিতীয় ফটকের সামনে অবস্থান নেন সংবাদকর্মীরা। পাশাপাশি কিছু উৎসুক মানুষও সেখানে জড়ো হন। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দু–একটি গাড়ি ভেতরে যাওয়া–আসা করতে দেখা যায়।
বঙ্গভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসহাকিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছেন। উনি বের হন কি না, তাই দেখতে এসেছি। মতিঝিলে একটা কাজে এসেছিলাম। সেখান থেকে এখানে এসেছি।’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গণ–অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে সরানোর উদ্যোগ নেয়নি।
ভিওডি বাংলা/আর









মন্তব্য