• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

সরকারি হালট উদ্ধার অভিযানে ভাঙচুরের অভিযোগ

  কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পি.এম.
শেয়ার করুন 1
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে সরকারি হালট দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, অভিযানে প্রায় এক শতক সরকারি হালট উদ্ধার করা হয়েছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৬৯ নম্বর দাগে অবস্থিত সরকারি হালট অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগে গত ২৮ জুন স্থানীয় বাসিন্দা শরিফ হাসান ভূঁইয়া আবেদন করেন। পরে পরিমাপ ও তদন্তে সরকারি জমির একটি অংশ দখলের সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে ওই হালটের ওপর দিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করেও এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করা স্থানীয় বাসিন্দা তাইনুস শাহী জানান, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও জমি পরিমাপে অসঙ্গতি রয়েছে। তার অভিযোগ, আপত্তি জানানো হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি এবং তার দখলীয় জমির ভেতর পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়েছে। এছাড়া বাড়ি উচ্ছেদের আগে তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তাইনুস শাহী আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের সময় তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং কিছু মালামাল লুটপাট হয়েছে। তিনি বিষয়টি পুনঃপরিমাপের আবেদনসহ আইনগতভাবে প্রতিকার চাইবেন বলে জানান।

অন্যদিকে, আবেদনকারী শরিফ হাসান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হালট দখলমুক্ত না থাকায় এলাকাবাসী ভোগান্তিতে ছিলেন। প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়রা উপকৃত হয়েছেন। এজন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নাকচ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, আমি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। আমার উপস্থিতিতে কোনো ভাঙচুর বা লুটপাটের অভিযোগ পাইনি। তদন্ত ও পরিমাপের মাধ্যমে সরকারি হালটের অবৈধ দখল চিহ্নিত করে আইনানুগভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে প্রশাসনের দাবি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় নিয়ম না মেনে তাদের ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
চায়না দুয়ারী জালে মাছ নিধন, মাঠে নামল মোবাইল কোর্ট
ছবি: সংগৃহীত
বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই তিস্তার পানি
ছবি: সংগৃহীত
কুমারখালীতে শিশু বলৎকারচেষ্টার অভিযোগে হুজুর আটক