ফাইবার-ম্যাক্সিং নাকি ডায়েট?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন স্বাস্থ্য ট্রেন্ড দেখা যায়। কখনো বিশেষ কোনো ডায়েট, কখনো আবার নির্দিষ্ট একটি খাবার। তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে 'ফাইবার-ম্যাক্সিং'। কিন্তু এটি কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর নাকি ট্রেন্ডে গা ভাসানো?
চলুন জেনে নিই, ফাইবার ম্যাক্সিং মূলত কি.....
ফাইবার-ম্যাক্সিং হলো প্রতিদিনের খাবারে আঁশ বা ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো। অর্থাৎ কম খাওয়া নয়, বরং এমন খাবার বেছে নেওয়া যেগুলো শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

পুষ্টিবিদদের মতে, পর্যাপ্ত ফাইবার হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যেতে পারে। এছাড়া নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ খাবার হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাহলে কী খাবেন?
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন ওটস, লাল চাল, মসুর ও মুগ ডাল, ছোলা, রাজমা, আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা, কমলা, কলা, ব্রকলি, গাজর, পালং শাক, মিষ্টি কুমড়া, চিয়া বীজ, তিসি বীজ এবং কাঠবাদাম বা চিনাবাদামের মতো বাদাম। এগুলো সহজেই প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে যোগ করা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন। হঠাৎ করে অতিরিক্ত ফাইবার খাওয়া শুরু করলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সবার শরীর এক রকম নয়। তাই কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

তাই বলা যায়, ফাইবার-ম্যাক্সিং কোনো জাদুকরি ডায়েট নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি অনুসরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিওডি বাংলা/তা








মন্তব্য