• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বৈষম্যহীন দেশ বিনির্মাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পি.এম.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কাউকে আলাদা মনে করে না। সরকার এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে আয়োজিত দেশের সমতল এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রথম সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের দাবি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণসুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ ফরেস্টের নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসতি থেকে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতারা।

এ সময় মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থ পাচার না হতো, তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর) অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য, সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, আমরা আরও ভালো অবস্থানে কীভাবে থাকতে পারি।

দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে আমি এখনো বিস্মিত হই। কেননা, ১৭ বছরে এগুলোর সমাধান হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো সমাধান করা হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ এসে পড়েছে আমাদের সরকারের ওপর। এই সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ধ্বংস হওয়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উত্তরণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোতুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আমাদের সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এর উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর হ্রাসের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভিওডি বাংলা/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
৪৫ বছর পর শহীদ জিয়ার খুনি গ্রেপ্তার
রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব। ছবি: সংগৃহীত
রথযাত্রা ঘিরে দেশজুড়ে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা
ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী