• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ আসামির আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৩ পি.এম.
আবু সাঈদ হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামিদের আদালতে আনা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আবু সাঈদ হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামিদের আদালতে আনা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড। ২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত চার আসামি ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা বাতিল করে খালাস চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু।

আপিলকারীদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং ছাত্রলীগের নেতা এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও কয়েকজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রংপুরের পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হয়।

চলতি বছরের ৯ এপ্রিল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয় মোট ৩০ জনকে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচজনের ১০ বছর, আটজনের পাঁচ বছর এবং ১১ জনের তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একজনের ক্ষেত্রে হাজতে কাটানো সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তাদের পাশাপাশি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরীও আপিলের মাধ্যমে খালাস চেয়েছেন।

রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এ ছাড়া ১০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। রায় ঘোষণার সময় তারা পলাতক ছিলেন।

পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন আরএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, ছাত্রলীগের নেতা মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন।

ভিওডি বাংলা/জা

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
সেলিম প্রধান ফের গ্রেপ্তার
ফ্লাইট এক্সপার্ট
টিকিটের নামে প্রতারণা ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
ছবি: সংগৃহীত
নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, প্রথম মামলায় দুই আসামির রিমান্ড