তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্য
টিকটকের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ

১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে টিকটক ব্যর্থ হচ্ছে-এমন গুরুতর আশঙ্কার কথা জানিয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম।
সংস্থাটির প্রকাশিত প্রথম বয়স যাচাই প্রতিবেদন-এ বলা হয়েছে, টিকটকের বয়স নির্ধারণ পদ্ধতি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে। ফলে তারা ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিতে পড়ছে।
প্রতিবেদনে টিকটকের তথাকথিত বয়স অনুমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অফকম। এ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর আচরণ, কার্যক্রম ও ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে তিনি শিশু নাকি প্রাপ্তবয়স্ক তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়। তবে অফকমের দাবি, এই পদ্ধতিকে কার্যকর বয়স যাচাইয়ের উপায় হিসেবে তারা শিল্পখাতের নির্দেশিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।
নতুন অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী টিকটকের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ক্ষতিকর বিষয়বস্তু থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই আইনের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ছবি তৈরির সুবিধা নিয়ে এক্সের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে অফকম।
তদন্তে টিকটকের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ এক কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড অথবা তাদের বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে টিকটক। এক মুখপাত্র বলেন, তাদের উন্নত বয়স নির্ধারণ প্রযুক্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এটি শিল্পখাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরুর পর গত আট বছরে প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি কয়েকশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী নিজেদের দায়বদ্ধতা পূরণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দ্বিতীয় দেশ হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
এ ছাড়া ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অসীম স্ক্রলিংয়ের মতো আসক্তি বাড়ায়—এমন বিভিন্ন সুবিধা সীমিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
গত মাসে এ পরিকল্পনা ঘোষণার পর টিকটক জানিয়েছিল, কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ অনলাইন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করে। এ কারণে টিকটকে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য ৫০টিরও বেশি নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সুবিধা আগে থেকেই চালু রয়েছে।
অফকমের বয়স যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার প্রথম কয়েক মাসেই শিশুদের জন্য কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/তা








মন্তব্য