• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ইতিহাস গড়ার পর কেন গতি হারাচ্ছে ইলন মাস্কের কোম্পানির শেয়ার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। তবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মাত্র এক মাস পরই কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত ১২ জুন স্পেসএক্স প্রথমবারের মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার উন্মুক্ত করে। কোম্পানি প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১৩৫ ডলার। কিন্তু লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই ব্যাপক চাহিদার কারণে শেয়ারের দাম ১৫০ ডলারে উঠে যায়, এক পর্যায়ে ১৭৬ ডলার স্পর্শ করে এবং দিন শেষে ১৬০ দশমিক ৯৫ ডলারে লেনদেন শেষ হয়।

এরপরের সপ্তাহে শেয়ারের দাম আরও বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ ২২৫ ডলারে পৌঁছে যায়। ফলে বাজারমূল্যের দিক থেকে স্পেসএক্স সাময়িকভাবে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটকেও ছাড়িয়ে যায়।

বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএফআরএর বিশ্লেষক কিথ স্নাইডার বলেন, “ইলন মাস্কের সঙ্গে যুক্ত যে কোনো কোম্পানিই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। তবে এবার মানুষ মনে করেছিল তারা এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে, যাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বড় খেলোয়াড় হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”

বেসরকারি কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠান নিওস্টেলারের বিনিয়োগকারী উইলি লিরও একই মত। তাঁর ভাষায়, “বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী স্পেসএক্সকে মূলত একটি এআই কোম্পানি হিসেবেই দেখেছিলেন।”

চলতি বছরের শুরুতে স্পেসএক্স ইলন মাস্কের এআই স্টার্টআপ xAI-কে অধিগ্রহণ করে, যার নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেসএক্সএআই’। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিকে ডেটা সেন্টারের সক্ষমতাও ভাড়া দিতে শুরু করে। এসব কারণেই অনেক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎকে এআই-নির্ভর প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

তবে বাস্তবে স্পেসএক্সের প্রধান আয়ের উৎস এখনও রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মেমফিস এলাকায় স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর স্পেসএক্সের শেয়ার একদিনেই প্রায় ৮ শতাংশ পড়ে যায়।

এদিকে প্রযুক্তি খাতের সামগ্রিক অস্থিরতার মধ্যেও স্পেসএক্সের শেয়ার তুলনামূলক বেশি চাপের মুখে রয়েছে। ৭ জুলাই নাসডাক-১০০ সূচকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দিন সূচকটি যেখানে ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল, সেখানে স্পেসএক্সের শেয়ার কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রথম মাসের লেনদেন শেষে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৫ ডলার। এটি প্রথম দিনের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২২৫ ডলারের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম।

বিশ্লেষকদের মতে, যেসব সাধারণ বিনিয়োগকারী আইপিওর পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনেছিলেন, তারা এখন লোকসানের মুখে রয়েছেন।

কিথ স্নাইডার বলেন, “যারা শুরুতেই উচ্চ দামে শেয়ার কিনেছেন, তারা এখন নিশ্চিতভাবেই লোকসানে আছেন।”

তিনি আরও বলেন, “একপর্যায়ে স্পেসএক্সের শেয়ার অনেকটা ‘মিম স্টক’-এর মতো আচরণ করেছে।” তাঁর মতে, ব্যবসার বর্তমান আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে শেয়ারের দাম আরও কমে ১১৫ ডলারে নামতে পারে। সেক্ষেত্রে কোম্পানিটির বাজারমূল্য হবে প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে মার্জারমার্কেটের ইকুইটি ক্যাপিটাল মার্কেট বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান স্যামুয়েল কের বলেন, আইপিওতে ১৩৫ ডলারে শেয়ার পাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কিংবা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ শেয়ারধারীরা এখনও লাভে রয়েছেন।

তাঁর ভাষায়, “কিন্তু যারা প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে বাজার থেকে শেয়ার কিনেছেন, তারা নিশ্চয়ই এখন খুব একটা সন্তুষ্ট নন।”

তবে ইলন মাস্ক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পর তিনি দাবি করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে স্পেসএক্স বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করবে।

শেয়ারবাজারে প্রবল উত্থানের সুযোগও কাজে লাগিয়েছেন মাস্ক। ১৬ জুন শেয়ারের মূল্য সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর সময় স্পেসএক্স প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের সম্পূর্ণ শেয়ারভিত্তিক চুক্তিতে এআই কোডিং স্টার্টআপ ‘কার্সর’ অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারের বাড়তি মূল্য ব্যবহার করে কার্যত কম খরচেই এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে কোম্পানিটি।

এদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক মরগ্যান স্ট্যানলি এখনও স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারের লক্ষ্যমাত্রা ৩০০ ডলার নির্ধারণ করেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ লেনদেনমূল্যের চেয়েও প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

তবে বাস্তবতা হলো, স্পেসএক্স এখনও লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্যে দেখা যায়, গত বছর কোম্পানিটির আয় ছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে ২০৩০ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের মাস্কের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বর্তমান আয়ের প্রায় ৫৫ গুণ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর কোম্পানিটির প্রথম ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফলের দিকে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী আগস্টের শুরুতে সেই প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে। একই সময়ে শেষ হবে ‘লক-আপ’ মেয়াদ, যার পর কোম্পানির কর্মীরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া শেয়ার বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।

বাজারে নতুন শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কোম্পানির আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ—দুই মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহে স্পেসএক্সের শেয়ারে আবারও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

স্যামুয়েল কের বলেন, “স্পেসএক্স যদি তাদের ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের আগে প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।”

সূত্র: বিবিসি

ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট গৃহবন্দি
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ওআইসির নারী বিষয়ক সম্মেলন শুরু
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা