প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কি সুবিধা পাবেন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে রবিবার (১২ জুলাই)। মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছেন । প্রশ্ন হচ্ছে- বৃত্তি পেয়ে কি লাভ? কি সুবিধা পাবেন এসব শিক্ষার্থীরা?
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ২২৫ টাকা করে বৃত্তি পাবে। পাশাপাশি উভয় শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন দুই বছর তারা এই সুবিধা ভোগ করবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পেয়েছে।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানদীপ্ত প্রজন্ম উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির ৪৯ হাজার ৫০০টির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯ হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক ৫টি করে বৃত্তি (২ জন বালক, ২ জন বালিকা এবং বাকি ১টি মেধার ভিত্তিতে) দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া, বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি রাখা হয়েছে।
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন যেখানে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন। পরীক্ষায় মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন (৬৫.১১ শতাংশ), যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭জন (৬২.০১ শতাংশ) এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন (৮৪.১৬ শতাংশ)। উপস্থিত মোট পরীক্ষার্থীর ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮ শতাংশ) ছাত্র এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০.৩২ শতাংশ) ছাত্রী।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য