সুইজারল্যান্ডকে বিদ্ধস্ত করে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শুরুতে ম্যাক আলিস্টারের গোলে লিড নেয় আর্জেন্টিনা । ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ডে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল শুন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে আলভারেজ ও মার্টিনেজের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চ্যাম্পিয়নরা। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
অতিরিক্ত সময়ে হুয়ান আলভারেজের গোলে আবারও লিড নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে সমতায় ফেরার পরই ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু একের পর আক্রমণ সুইস রক্ষণে আটকে যাচ্ছিলো। সেখান থেকেই দলকে বের করেন আনেন আলভারেজ। বক্সের বাইরে থেকে তার নেয়া শট চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলো না সুইজারল্যান্ড গোলরক্ষকের।
১-১ সমতায় শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত ৯০।প্রথমার্ধে আলিস্টারের হেডে লিড নেয় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফিরিয়েছেন ড্যান এনদোয়ে। দলীয় আক্রমণে রিকার্দো রদ্রিগেজের পাস থেকে গোলটি করেন এনদোয়ে।
৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখলেন ব্রিল এমবোলো। এর ফলে তাঁকে ফাউলের অভিযোগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দেখানো হলুদ কার্ডটি বাতিল হয়ে যায় ।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছেন ম্যাক আলিস্টার। মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলকে হেডে জালের ঠিকানা দেখান এই লিভারপুল তারকার । প্রথমার্ধে ওই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় চ্যাম্পিয়নরা।
সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে দু’দল মুখোমুখি হয়েছে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে। যেখানে মিশরের বিপক্ষে খেলা শুরুর একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেননি আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি। আক্রমণভাগে যথারীতি মেসি-আলভারেজ এবং মিডফিল্ডে আছেন ৪ অভিজ্ঞ তারকা।
সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্তোনিও রাতিনকে স্মরণ করে এই আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন মেসিরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার জেডেন অ্যাডামসের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেছে দুই দল। এবারের বিশ্বকাপেই দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছিলেন অ্যাডামস। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল আর্জেন্টিনা। সেই চাপেরই ফল মিলল ম্যাচের ১০ মিনিটে। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ম্যাক আলিস্টার।
এর আগে নবম মিনিটেও গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে মেসি বল বাড়ান ম্যাক আলিস্টার উদ্দেশে। লিভারপুল মিডফিল্ডারের জোরালো শট নিকো এলভেদির গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায় সুইজারল্যান্ড।
সেই কর্নার থেকেই আসে গোল। প্রথম কর্নারটি প্রতিহত করার পর আবারও কর্নার নেন মেসি। কাছের পোস্টে উড়ে আসা মাক আলিস্টার দারুণ উচ্চতায় লাফিয়ে মানুয়েল আকাঞ্জিকে টপকে মাথা ছুঁইয়ে জালে পাঠান। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কিছুই করার ছিল না।
এনিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০ অ্যাসিস্টের মাইলফলক ছুঁলেন মেসি।
প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেলেও বল পজিশনে এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড (৫৮ শতাংশ)।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য