সেলিনা জেটলির পরামর্শ
‘বিয়ের আগে সম্পত্তি সুরক্ষায় আইনি চুক্তি করুন’

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি আবারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় এসেছেন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। স্বামীর সঙ্গে চলমান বিবাহবিচ্ছেদের মামলার মধ্যেই নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অবিবাহিত নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তার মতে, বিয়ের আগে নিজের সম্পত্তি সুরক্ষায় আইনি চুক্তি (প্রিনাপচুয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট) করে নেওয়া উচিত।
সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলিনা দাবি করেন, বিবাহবিচ্ছেদের আগে তাকে নিজের সব সম্পত্তি স্বামীর নামে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ কারণে বর্তমানে তার নিজের নামে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, ‘যাদের নিজস্ব সম্পত্তি আছে, তারা বিয়ের আগে অবশ্যই একটি আইনি চুক্তি করে নেবে। নিজের সম্পত্তি আলাদা করে রাখবে। শেষ পর্যন্ত অনেক সম্পর্কই সম্পদের প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়। ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি, জন্ম, মৃত্যু কিংবা সন্তান- সবকিছুর মাঝেও সম্পদের বিষয়টি বড় হয়ে ওঠে। আর সেটাই সবচেয়ে কষ্টের।’
এর আগেও দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সেলিনা। তার দাবি, ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে স্বামীর কাছ থেকে ‘উপহার’ হিসেবে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজ পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে কঠিন সময়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি স্বামীর নামে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২০১০ সালে অস্ট্রিয়ার ব্যবসায়ী পিটার হ্যাগকে বিয়ে করেন সেলিনা জেটলি। তাদের সংসারে যমজ সন্তান উইনস্টন ও বিরাজ এবং পরে আর্থার নামে আরও এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এছাড়া শামশের নামে আরেক যমজ সন্তান জন্মের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে পিটারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হন সেলিনা। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি যৌথ অভিভাবকত্বের ব্যবস্থা থাকলেও তাকে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সেলিনার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিটার হ্যাগের পক্ষ। চলতি বছরের মে মাসে মুম্বাইভিত্তিক আইন সংস্থা সেমওয়াল অ্যান্ড কোং জানায়, চলমান বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের হেফাজত-সংক্রান্ত মামলার মধ্যে সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে সেলিনাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তার নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি প্রকাশিত মন্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
ব্যক্তিগত জীবনের এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্য নারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সেলিনা জেটলি। তার মন্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিওডি বাংলা/ তা








মন্তব্য