শিশু মাহফুজ হত্যা: তিন জনের মৃত্যুদণ্ড, দু’জনের যাবজ্জীবন

পনেরো বছর আগে শিশু মাহফুজকে (৮) অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষনে বিচারক বলেন, এটি কেবল একটি হত্যা মামলা নয়, বরং মানুষরূপী কিছু অপরাধীর হিংস্রতার শিকার এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক পরিণতির দলিল।
লাইলাতুল বরাতের পবিত্র রাতে নামাজ পড়তে বের হওয়া আট বছরের মাহফুজকে অপহরণ করে মুক্তিপণের লোভে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখা হয়। পরে অর্থ না পেয়ে নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ মেহগনি বাগানে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ধরনের নৃশংস ও পাশবিক অপরাধ সমাজে আর কেউ যাতে করার সাহস না পায়, সেজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়।
পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।
এছাড়া, আসামিদের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেন আটজন।
২০১২ সালের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নিজাম শিকদার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করে আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ইতালি প্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পূর্বশত্রুতা ছিল।
এ ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ নভেম্বর এ মামলার অপর দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মেহেদী ও সাদ্দামকে ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এম এ জলিল উজ্জ্বল/জা








মন্তব্য