গুমের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে নতুন অধিদপ্তরের প্রস্তাব ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, গত ১৭ বছরে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ‘গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন পুনর্বাসন অধিদপ্তর’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি বিবেচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই তিনি গুম ও খুনের শিকার, বিশেষ করে বিএনপির ছাত্রনেতাদের পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করে আসছেন। ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এসব পরিবারের পাশে ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সপ্তাহেই পুরান ঢাকার সাতজন এবং নিউমার্কেট এলাকার একজনসহ গুম হওয়া আট ছাত্রনেতার পরিবারের সদস্যদের মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তাদের আবাসন, আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং সন্তানদের উচ্চশিক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, পরে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করলে তাঁরা জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বর্তমান কার্যপরিধিতে গুম, খুন বা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের কোনো বিধান নেই। এরপর তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের অ্যালোকেশন অব বিজনেসে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, দেশে একটি বড় জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য গুমের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তিন হাজারের বেশি এবং পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচশর বেশি। পঙ্গুত্ব বরণকারীদের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে বহু মানুষ গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে এবং অনেক পরিবার আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, এসব মানুষের ত্যাগের ধারাবাহিকতার ওপর দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। তাই রাষ্ট্রের তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত ‘গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন পুনর্বাসন অধিদপ্তর’ গঠিত হলে গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলোর একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য স্থায়ী আবাসন, আর্থিক সহায়তা, সন্তানদের বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে দ্রুত কাঠামোগতভাবে কার্যক্রম শুরু করা হবে। দেশের জন্য ও গণতন্ত্রের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁরা যেন আর অবহেলিত না থাকেন এবং রাষ্ট্র যেন তাদের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য