• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

খামেনির জানাজায় নেই সৌদি প্রতিনিধি, আলোচনা বাড়ছেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পি.এম.
খামেনির শেষবিদায়ে লাখো মানুষের সমাগম। ছবি: সংগৃহীত
খামেনির শেষবিদায়ে লাখো মানুষের সমাগম। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজন ঘিরে সৌদির অনুপস্থিতি নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) হাউস অব সৌদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক বছর আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সরাসরি ইরান সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার বড় অগ্রগতি হিসেবে সফরটিকে দেখা হয়েছিল।

তবে এবার খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় সৌদির অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক ভূরাজনৈতিক কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস পুরোপুরি কাটেনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে এখনও পরোক্ষ উত্তেজনা বিদ্যমান। পাশাপাশি চলমান আলোচনা ও মধ্যস্থতা কার্যক্রমও বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সফর ও কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের ইরান সফরের সম্ভাবনাও জটিল হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সৌদি আরবের অনুপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্য ও আস্থার সংকটেরও প্রতিফলন।

তাদের মতে, একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরানের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি অনুষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ সৌদির জন্য জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ৩ জুলাইয়ের এই আয়োজন বিদেশি অতিথিদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত। ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত তেহরান, কোম, মাশহাদ, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠান চলবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট সালোমে জুরাবিশভিলি কাভেলাশভিলি এবং চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই। এছাড়া ভারত থেকেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিহারের গভর্নর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, বিমান  পুড়িয়ে দিলো বিদ্রোহীরা
পাপুয়ায় পাইলটকে হত্যার পর বিমান পুড়িয়ে দিলো বিদ্রোহীরা
বোম্বে হাইকোর্ট
‘নাগরিকদের কি সরকারের দাস বানাতে চান?’- মুম্বাই পুলিশকে আদালতের ভর্ৎসনা
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুবকের আত্মাহুতি