জুলাইয়ে আমার জীবনে একজন বেহুলা এসেছিলেন: আহমেদ ইসহাক

গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক এই অভ্যুত্থানের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। মুক্তিকামী সকল রাজনৈতিক শক্তি ছিল এই অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীদার। রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আহমেদ ইসহাকও ছিলেন তাদের একজন।
আহমেদ ইসহাকের জন্ম ২০০০ সালের ২২ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার দয়াপুর গ্রামে। তিনি আরবি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি করেছেন। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তীতে তিনি ‘রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতার কথা গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন তিনি।
আহমেদ ইসহাক বলেন, জুলাইয়ে আমার জীবনে একজন বেহুলা এসেছিলেন। যিনি আমাকে ‘লখাই’ বলে ডাকতেন। আর বলতেন, সাত সমুদ্র, তেরো নদী পার হতে হলেও আমার সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু মাত্র ছয় মাসেই আবিষ্কার করলাম তিনি বেহুলা নয়, মনসার আদিষ্ট কালীনাগ।
তিনি আমার সঙ্গেই রাজপথে ছিলেন। এমন কি আমরা একসঙ্গে রাজপথে শহীদ হওয়ার পণ করেছিলাম। নারীরা যে পুরুষদের যুদ্ধের উৎসাহ তা আমি তার কাছ থেকে শিখেছি। তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘ সম্ভবত সেদিন ছিল জুলাইয়ের ৮ তারিখ। ৭ তারিখ সন্ধ্যায় নাহিদ ইসলাম কল করে জিজ্ঞেস করলেন, পার্টি অফিসে আছি কিনা। নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেনসহ কয়েকজন আন্দোলনের নেতা কাইয়ুম ভাইয়ের (রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম) সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন কোটার আইনি/সাংবিধানিক বিষয় ও আন্দোলনের সার্বিক দিক নিয়ে আলাপ করতে। আমি লাগাতার সাংগঠনিক সফর করে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ছিলাম। নাহিদ ইসলাম বললেন— ‘কোটা তো হয়ে যাচ্ছে, আপনারা বাড়িতে থাকলে কীভাবে হবে, ঢাকায় ফিরেন ভাই।’ রাতে হাসনাত কাইয়ুম ভাইও কল করে ঢাকায় ফেরার তাগাদা দিলেন। আমি পরদিন ঢাকায় ফিরি। সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আন্দোলনে যোগ দেই।’
সূত্র: বাসস
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ








মন্তব্য