• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন

সড়ক, সেতু ও রেলে গতি ফেরানোর অভিযাত্রায় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

আহসান হাবিব    ২৬ জুন ২০২৬, ১১:১১ এ.এম.
গ্রাফিক্স: আরিফুল ইসলাম
গ্রাফিক্স: আরিফুল ইসলাম

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের যোগাযোগ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের ওপর। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি দপ্তর বণ্টনের পর থেকেই দেশের সড়ক, মহাসড়ক, সেতু ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও গতিশীল করতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন তিনি।

সরকারের প্রথম ১০০ দিন ছিল মূলত ভিত্তি শক্ত করার সময়। এই সময়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব একদিকে যেমন দুই ঈদের বিশাল জনযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করেছেন, অন্যদিকে তেমনি চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি, রেলসেবার মানোন্নয়ন এবং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরই মাঠে

বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, যাত্রীসেবা সংকট এবং রেল ব্যবস্থাপনার নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাঠমুখী অবস্থান গ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

দপ্তর গ্রহণের পর বিভিন্ন সংস্থা, বিভাগ ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন তিনি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দুই ঈদে বড় পরীক্ষা, সক্রিয় ছিল মন্ত্রণালয়

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোটি মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করা।

ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং স্টেশনভিত্তিক সমন্বয় কার্যক্রম জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে মহাসড়কে যানজট নিরসন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয় রাখা হয়।

ঈদযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে জানান, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে প্রচারিত অনেক তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রেল খাতে সরাসরি তদারকি

দায়িত্ব গ্রহণের পর রেল খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলকেন্দ্র ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন পরিদর্শন করে তিনি যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, পরিচালন ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন নির্দেশনাও দেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। সিলেট অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন।

সড়ক ও সেতু খাতে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি

দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচিত মহাসড়ক নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করতে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তদারকি করেন প্রতিমন্ত্রী। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, পণ্য পরিবহন সহজীকরণ এবং চালকদের কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মে মাসে কুমিল্লার নিমসারে পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের জন্য নির্মিত পার্কিং সুবিধাসহ বিশ্রামাগার পরিদর্শন করেন তিনি। চালকদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষ্য

প্রথম ১০০ দিনে প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে জনসেবামুখী প্রশাসন। তিনি বারবার মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের সেবার মান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রেলস্টেশন পরিদর্শন, মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ, ঈদযাত্রা তদারকি এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যমে তিনি একটি বার্তা দিয়েছেন—যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং সেবার মান বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান প্রকল্পগুলোর ওপর বিশেষ নজর

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে নতুন প্রকল্প ঘোষণার চেয়ে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সড়ক উন্নয়ন, রেললাইন সংস্কার, স্টেশন আধুনিকায়ন, মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং যাত্রীসেবা বৃদ্ধির প্রকল্পগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

১০০ দিনের মূল্যায়ন

প্রথম ১০০ দিনে সড়ক, সেতু ও রেল খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের চেয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, তদারকি বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নের ভিত্তি তৈরির কাজই বেশি হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা, রেল যোগাযোগ উন্নয়নে উদ্যোগ এবং চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের যোগাযোগ খাত আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই খাতের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ভিত্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এখন অপেক্ষা সেই উদ্যোগ বাস্তব উন্নয়ন, নিরাপদ সড়ক, আধুনিক রেলব্যবস্থা এবং আরও গতিশীল যোগাযোগ নেটওয়ার্কে কতটা রূপ নেয়, তা দেখার।

ভিওডি বাংলা/এফএ/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কারা?
ছবি: ভিওডি বাংলা গ্রাফিক্স
আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এনসিপি ও পুলিশের ওপর বড় হামলার শঙ্কায় দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা
ছবি: সংগৃহীত
এক বিলিয়ন ব্যারেল তেল উধাও, জ্বালানিতে নতুন উদ্বেগ