• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ভ্রমণ ক্লান্তি ভুলে বেলজিয়ামকে রুখে দিল ইরান

ভিওডি স্পোর্টস ডেস্ক    ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০১ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং মাঠের বাইরের নানা চাপ সবকিছুই যেন ইরানের বিপক্ষে ছিল। তবুও বিশ্বকাপে দারুণ লড়াই করে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিল আমির গালেনোইয়ের দল। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে ফেবারিট বেলজিয়ামকে ০-০ গোলে রুখে দিয়েছে ইরান।

ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। আক্রমণও করেছে বেশি, সুযোগও তৈরি করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ইরানি গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ, যার একাধিক দুর্দান্ত সেভ ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়।

প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক শুরু করে বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকুকে শুরু একাদশে রেখে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ রুডি গার্সিয়া। তবে ম্যাচের শুরুতেই ইরানি গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন লুকাকু, যদিও ইরান শিবিরের দাবি ছিল, সেটি আরও কঠোর শাস্তির যোগ্য ছিল।

এরপর কেভিন ডি ব্রুইনা, লিও ট্রসার্ড ও ইউরি টিয়েলেমানসদের নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় বেলজিয়াম। অন্যদিকে ইরানও সুযোগ বুঝে সেট-পিস থেকে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। হোসেইন কানানিজাদেগানের একটি ভলি দুর্দান্তভাবে রুখে দেন থিবো কুর্তোয়া।

প্রথমার্ধে সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে সেট-পিস থেকেই। এহসান হাজসাফির ফ্রি-কিকে মেহদি তারেমি বল জালে পাঠালেও ভিএআর পরীক্ষায় গোল বাতিল হয়—অফসাইডে ধরা পড়েন তিনি। যদিও এই মুহূর্ত ইরানের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দেয়।

পুরো প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের দখল ছিল একতরফা, তবে গোলের সামনে কার্যকারিতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে ইরান রক্ষণে ছিল সংগঠিত এবং বেইরানভান্দ বারবার দলকে রক্ষা করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন আলিরেজা জাহানবখশের একটি চ্যালেঞ্জে ট্রসার্ড মাটিতে পড়ে যান। বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা ফাউলের দাবি করলেও রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি, ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি।

এরপর আবারও কুর্তোয়া বেলজিয়ামকে রক্ষা করেন তারেমির নেওয়া একটি জোরালো শট ঠেকিয়ে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ডি ব্রুইনার পাসে দে কুইপার প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগে। সেই মুহূর্তে অসাধারণ রিফ্লেক্সে শট ঠেকিয়ে দেন বেইরানভান্দ, যা ম্যাচের অন্যতম সেরা সেভ হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। নাথান এনগয়ের ভুল পাস থেকে তারেমি সুযোগ তৈরি করলে তাকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। ফলে শেষ আধঘণ্টা বেলজিয়ামকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে।

সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও ইরান খুব বেশি ঝুঁকি নেয়নি। বরং রক্ষণ সামলে প্রতিআক্রমণের অপেক্ষায় থাকে তারা। শেষ দিকে সাঈদ এজাতোলাহির একটি শট আবারও রুখে দেন কুর্তোয়া।

১০ জনের বেলজিয়ামও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। দে কুইপার ও দোদি লুকেবাকিও একাধিক চেষ্টা চালালেও ইরানি রক্ষণ এবং বেইরানভান্দকে পরাস্ত করা যায়নি। যোগ করা সময়ে লুকেবাকিওর একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয়। টানা দুই ড্র নিয়ে বেলজিয়ামের জন্য এটি বড় হতাশার ফল, অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে দুই ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে দারুণ অবস্থানে ইরান।

গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে ইরান মুখোমুখি হবে মিসরের, আর বেলজিয়াম খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। শেষ রাউন্ডের আগে গ্রুপের হিসাব এখনও খোলা থাকলেও ইরান প্রমাণ করেছে—তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এলয় রমের ১৫ সেভ: কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক প্রথম পয়েন্ট
এলয় রমের ১৫ সেভ: কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক প্রথম পয়েন্ট
অস্ট্রিয়া ম্যাচে একাধিক রেকর্ডের হাতছানি মেসির
অস্ট্রিয়া ম্যাচে একাধিক রেকর্ডের হাতছানি মেসির
বিশ্বকাপের মাঝপথে ব্রাজিল শিবিরে দুশ্চিন্তা
বিশ্বকাপের মাঝপথে ব্রাজিল শিবিরে দুশ্চিন্তা