• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বাংলাদেশি ধনকুবেরের ভারতে বিশাল বিনিয়োগ, কে এই রবিন খুদা?

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

এই মুহূর্তে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি ধনকুবের ও অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা রবিন খুদা আলাপ-আলোচনা তুঙ্গে। তার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাংকের নাম ছাপিয়ে এখন আলোচনার ফ্ল্যাশলাইটে।  এয়ারট্রাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রবিন খুদার পেশা, উত্থান, সাফল্য সব গল্পের মতো। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এক বিনিয়োগের ঘোষণা থেকেই তাকে নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।

বিশ্ববাজারে দ্রুত উত্থানের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করা এয়ারট্রাংক ভারতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্ল্যাকস্টোন-সমর্থিত ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাংক। ৫ গিগাওয়াটেরও বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগকে ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম বৃহৎ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রবিন খুদার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর গত শুক্রবার (৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এয়ারট্রাংক জানিয়েছে, তারা পুরো ভারতজুড়ে প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তুলবে।

ফোর্বসের রিয়েল-টাইম ডাটা অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া রবিন খুদার বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২১০ কোটি (২ দশমিক ১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ৩৬তম শীর্ষ ধনী। রিয়েল টাইম বিলিয়নেয়ার বা ধনকুবেরদের মধ্যে তার অবস্থান ১ হাজার ৯৯৫তম।

রবিন খুদাদের আদি বাড়ি সিরাজগঞ্জের ছাতিয়ানতলী গ্রামে। তার বাবা এস এম ওয়াজেদ আলী। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে ঢাকাতেই রবিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা করেছেন শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে। এখান থেকেই ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৯৭ সালে এইচএসসি পাস করেন মিরপুরের এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে।

এইচএসসি পাসের পর অস্ট্রেলিয়ার চলে আসেন রবিন খুদা। স্নাতকে ভর্তি হন সিডনি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার বিষয় হিসাববিজ্ঞান। একমাত্র ছেলে সিডনিতে থিতু হলে তার মা-বাবাও পরের বছর অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন।

সিডনিতে গ্র্যাজুয়েশন করার পর রবিন খুদা ডেটা সেন্টারে কাজের মাধ্যমে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। সেই সময়টায় প্রযুক্তি বিশ্বের পৃথিবী ক্লাউডের দিকে ঝুঁকছে একটু একটু করে। যত বড় বড় টেক জায়ান্ট, সবারই তখন ডেটা সংরক্ষণের জন্য দরকার বড় ডেটা সেন্টার। কিন্তু সেভাবে কেউ সেটি সংস্থান করতে পেরে ওঠেনি।

রবিন এখানেই বাজারটা এবং সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাটা ধরতে পেরেছিলেন। তিনি চাকরি ছেড়ে একেবারে খসড়া চেহারায় প্রতিষ্ঠা করেন এয়ারট্রাংক, যেটি আজকের বিশাল অর্থকড়ির এক প্রতিষ্ঠান। রবিনের পরিকল্পনা ছিল, টেক জায়ান্টদের পিচ করে বড় কাজ করবেন। আর প্রথম দফাতেই মাইক্রোসফটকে পিচ করে কাজ পেয়ে যায় তার প্রতিষ্ঠান।

সমস্যা বেঁধে যায় অন্যখানে। রবিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী যে সেটআপ, তার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একজন নতুন উদ্যোক্তা ও নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পরিমাণ অর্থ কে বা দিতে যাবে? রবিন ঘুরতে থাকেন বিভিন্ন জায়গায়। এভাবে কেটে যায় ১৩ মাস। নিজের সঞ্চয়, টাকা-পয়সা সব শেষ করে তিনি যখন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন; এমন সময় গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো প্রতিষ্ঠান রবিনের প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা করে এবং প্রয়োজনীয় লোন দিয়ে দেয়।

এর পরের গল্প শুধুই সাফল্যের, যেখান থেকে তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। কারণ তার নজর আর বিনিয়োগ ছিল অন্য স্তরের। তিনি বিশাল এবং কাস্টমাইজড সব ডেটা সেন্টার তৈরি করেন, যেগুলো বিশেষভাবে টেক জায়ান্টদের জন্যই তৈরি করা ছিল। এরপর তিনি এশিয়ায় তার ব্যবসার আরও সম্প্রসারণ করেন।

রবিন খুদার এই বিস্ময়কর উত্থান নিয়ে আলাপে ফোর্বস অস্ট্রেলিয়া তাকে তুলনা করেছে এক দুঃসাহসী জুয়াড়ির মতো, যিনি নিজের সর্বস্ব বাজি ধরেছেন শুধু নিজের ধারণার ওপর বিশ্বাস রেখে। রবিন নিজের ঘর-বাড়ি, সেভিংস, আয়—সবকিছু দিয়ে এয়ারট্রাংককে গড়েছেন, চালিয়ে নিয়েছেন। প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার জায়গা থেকে সাফল্য পেয়ে হয়েছেন বিপুল অর্থকড়ির মালিক। সেখানেই শুধু সাফল্য নন, অনুপ্রেরণারও এক নাম রবিন খুদা।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জোয়ারকে কাজে লাগাতেই এই মেগা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ারট্রাংক। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম ব্ল্যাকস্টোন এই প্রকল্পে অর্থায়ন ও সহযোগিতা করছে।

এয়ারট্রাংক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি ভারতেও নিজেদের নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়াচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তারা মুম্বাই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার ডেভেলপার লুমিনা ক্লাউডইনফ্রাকে অধিগ্রহণ করে। এই লুমিনা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৬০০ মেগাওয়াটের ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ করছে।

ফোর্বস এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবিন খুদা বলেন, ভারত হলো বিশ্বের এমন কয়েকটি বাজারের একটি, যেখানে ভবিষ্যৎ চাহিদার পরিমাপ আমাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। প্রতিটি বাজারেরই নিজস্ব শক্তি থাকে, তবে ভারতের প্রবৃদ্ধির গতিপথ অনন্য। এখানকার বিশাল জনসংখ্যা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং এআই নিয়ে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার যে সংমিশ্রণ তৈরি হয়েছে, তা অন্য কোথাও সহজে পাওয়া সম্ভব নয়।

রবিন খুদা বলেন, লুমিনার মাধ্যমে ভারতের বাজারে প্রবেশের আগে থেকেই আমরা এখানকার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ছিলাম। চলতি সপ্তাহে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর আমরা আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিকে আরও দ্বিগুণ করতে চলেছি। ভারত সরকার আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।

ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফোন বা ভিডিও কলে বিয়ে: কতটুকু বৈধ?
ফোন বা ভিডিও কলে বিয়ে: কতটুকু বৈধ?
রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতককে পাহারা দিল বেওয়ারিশ কুকুর
রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতককে পাহারা দিল বেওয়ারিশ কুকুর
নিউ ইয়র্কে সোনার ‘টয়লেট’ বিক্রি ১.২১ কোটি টাকায়
নিউ ইয়র্কে সোনার ‘টয়লেট’ বিক্রি ১.২১ কোটি টাকায়