• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

রামিসা হত্যা মামলার রায় ৩ মাসেই কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৭ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ পি.এম.
রামিসা হত্যা মামলার রায় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় তিন মাসের মধ্যেই কার্যকর করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে এজন্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সব বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলাটির বিচার কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। এখন উচ্চ আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগোবে। সব ধাপ শেষ হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই রায় কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করে আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আইন ও সংবিধানের বিধান মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, মামলার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডপ্রাপ্তরা চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হবে। এরপর পেপার বুক প্রস্তুত, শুনানি এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক কার্যক্রম শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

সরকার এ রায়ে সন্তুষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, মামলার তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে সরকারের প্রত্যাশা রয়েছে।

এর আগে সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার দুই আসামিকে হাজির করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে প্রিজনভ্যানে করে আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হতে মোট চার কার্যদিবস সময় লাগে, যা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত দ্রুততম বিচারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ প্রদান করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালতের এ নির্দেশকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রামিসা মামলার রায় বিচারব্যবস্থার মাইলফলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রামিসা মামলার রায় বিচারব্যবস্থার মাইলফলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
শুরু হলো বাজেট অধিবেশন
শুরু হলো বাজেট অধিবেশন