• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

হাসনাত-বসুন্ধরা সম্পর্ক নিয়ে একি বলছেন অপু?

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৫ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পি.এম.
হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি: ভিওডি বাংলা

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও বসুন্ধরা গ্রুপ নিয়ে গোপন সম্পর্ক ও গোপন লেনদেন নিয়ে একের পর এক বোমা ফাটাচ্ছেন জানে আলম অপু। নিজ ফেসবুক পেইজে একবাধিক পোস্টে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন এসব বিষয় নিয়ে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক পোস্টে অপু যা বলেছেনর তা হগুবহু তুলে ধরা হলো-  

“গতকাল (৩ জুন) বসুন্ধরা থেকে কোটি টাকার ফান্ডিং নেয়ার পোস্ট করার পর থেকে ইনবক্সে আর কমেন্টবক্সে সবাই প্রমাণ চাচ্ছিলেন। এই নেন প্রমাণ দিলাম।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ব্যানারে বড় ইফতার মাহফিল করার প্ল্যানিং এবং সেটা নিয়ে দীর্ঘদিন খেটেছি আমি।প্রথমে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে করার সিদ্ধান্ত নেই এবং তৎকালীন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের কাছে যাই চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি নিতে,তিনি স্রেফ জানিয়ে দেন নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৩লাখ টাকা ভাড়া দিয়ে ভেন্যু নিতে হবে। টাকা না থাকায় বিকল্প ভাবতে থাকি। আসিফ মা্হমুদ সজিব ভূইয়া, নাহিদ ইসলাম সহ সিনিয়র অনেক নেতার কাছেই যাই।

ঢাবি সিন্ডিকেট কখনোই চায় নাই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির পোলাপান আলাদাভাবে সংগঠিত হোক এবং তারা কখনোই আমাদের সহযোগিতা করে নাই।সোজাসাপটা জানিয়ে দেয় টাকা দিতে পারবে না,স্পন্সর ম্যানেজ করে প্রোগ্রাম করতে পারলে করো না পারলে নাই।অথচ এনসিপির ইফতার মাহফিল করছে প্রায় ৩.৫কোটি টাকা খরচ করে কিন্ত আমরা মাত্র ১০লাখ টাকা চেয়ে পাই নাই কারণ আমরা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ব্যানারে আলাদা প্রোগ্রাম করতে চাইছিলাম।

সে যাই হোক আমরা বদ্ধপরিকর প্রোগ্রাম করবোই,সেই লক্ষ্যে একটা আয়োজক কমিটি গঠন করি।সেই আয়োজক কমিটির একজন হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করলে হাসনাত আব্দুল্লাহ এই চিঠি তাকে দেয় এবং বসুন্ধরায় ফোন করে বলে দেয়। এই চিঠির রেফারেন্স ধরেই আমরা দফায় দফায় বসুন্ধরার সাথে মিটিং করি এবং প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করি পুরোপুরি বসুন্ধরার টাকায়।আমাদের প্রাইভেট এর প্রোগ্রাম থেকে শুরু হয় ফান্ডিং পরবর্তীতে মাসব্যাপী যত জায়গায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর ইফতার হয় সমস্ত জায়গায় খাবার সাপ্লাই হয় বসুন্ধরা থেকে।

ইভেন উমামা ফাতেমা আপুর উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় ব্যানারে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট এ যেই বড় ইফতার মাহফিল হয় সেটার খাবারও এখান থেকেই যায়।ভিআইপি সেই প্যাকেটগুলোর বাজেট ছিলো ২০০০টাকা করে।পার হেড ২হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয় বসুন্ধরা শুধু খাবার বাবদ।ভেন্যু ভাড়া,সাউন্ড সিস্টেম এবং অন্যান্য খরচ বাদই দিলাম।মাসব্যাপী শুধু খাবারই আসছে কোটি টাকার।

এই চিঠিকে অস্বীকার করার ক্ষমতা হাসনাত আব্দুল্লাহ রাখে না, চ্যালেঞ্জ করলাম।

৭ আগস্ট হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম এর মুখোশ উন্মোচন করি আমি,তারা যে হাসিনার পতনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো সেই টপিকে একটা ভিডিও বানাই। তারপর থেকেই হাসনাত আব্দুল্লাহ আমাকে দেখতে পারতো না।হাসনাত যেই কমিটিতে থাকতো আমি সেই কমিটি থেকে বাদ পরতাম। বাংলামোটর অফিসের প্রথম মিটিং এ হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে বাক বিতন্ডায় জড়াই আমি এবং ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটির সাকিন সবাব। একটা পর্যায়ে সাকিন চেয়ারে লাথি মেরে উঠে যায় মিটিং থেকে।

পরবর্তীতে আমি খুব একটিভ থাকায় এবং অন্যান্যদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় বিভিন্ন কমিটিতে ঢুকে গেলেও সাকিনকে কোনো কমিটিতে আসতে দেয় নাই হাসনাত আব্দুল্লাহ। হাসনাত বরাবরই একজন উগ্রমেজাজী, প্রতিশোধপরায়ণ মানুষ এবং সে কখনোই তার বিরুদ্ধে সমালোচনা একসেপ্ট করে না।

মিডিয়ার সামনের হাসনাতকে আপনারা দেখেন,আমরা ভিতরের হাসনাতকে দেখেছি খুব কাছ থেকে।ডিবি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত হাসনাত আব্দুল্লাহ একটা কোনো মিছিল মিটিং প্রোগ্রামে ছিলো এমন কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।রাস্তায় যখন আমাদের উপর গুলি চলে হাসনাতরা তখন বিভিন্ন এম্বাসি,ক্যান্টনমেন্ট আর মন্ত্রীপাড়ায় নেগোসিয়েশন করে বেড়াইছে।”

এই পোস্টের সঙ্গে অপু বসুন্ধরা চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও যুক্ত করেছেন- তা ছবি আকারে প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হলো। 

তবে এসব বিষয়ে হাসনাতদের পক্ষে কমেন্ট বক্সে কেউ কেউ লিখলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি। 

ভিওডি বাংলা/আরআর/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এক দিনের মাথায় এনসিপির পার্বতীপুর উপজেলা কমিটি স্থগিত
এক দিনের মাথায় এনসিপির পার্বতীপুর উপজেলা কমিটি স্থগিত
জামায়াতে হাইপ তৈরি হয়েছিল, বিএনপিকেই বেছে নিল জনগণ: মির্জা ফখরুল
জামায়াতে হাইপ তৈরি হয়েছিল, বিএনপিকেই বেছে নিল জনগণ: মির্জা ফখরুল
যুবদলের নতুন কমিটিতে বড় দায়িত্বে রবিউল ইসলাম নয়ন
যুবদলের নতুন কমিটিতে বড় দায়িত্বে রবিউল ইসলাম নয়ন