• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যার বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পি.এম.
শুনানির সময় আদালতে আনা হয় মামলার  আসামি সোহেল রানাকে। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রথম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কারাগার থেকে দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের আদালত এলাকায় আনা হয়। পরে সকাল ১১টার পর ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাদের উপস্থিত করা হয়। শুনানির সময় মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং আদালত পরবর্তী কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করেন।

শুনানিকালে আদালত প্রাঙ্গণে আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে কিছু দাবি করেন বলে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দাবি করেন, সোহেল রানা এমন কোনো বক্তব্য দেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আসামিরা বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

শুনানি শেষে আদালত আগামী ২ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেন। ওই দিন থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। আদালত কক্ষ থেকে শুনানির পর সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এবং স্বপ্না আক্তারকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটে বসবাসরত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যার আলামত নষ্ট ও সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিহত শিশুর বাবা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আদালত জানিয়েছে, সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বের মাধ্যমে মামলার বিচারিক অগ্রগতি শুরু হবে এবং পরবর্তী শুনানিগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অবহেলার অভিযোগে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা
৬ শিশুর মৃত্যু অবহেলার অভিযোগে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অন্য দেশের তুলনায় স্বাধীন : আইনমন্ত্রী
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অন্য দেশের তুলনায় স্বাধীন : আইনমন্ত্রী
ঠান্ডা মাথার ধর্ষণ ও হত্যা, বিচার পেতে লাগে ১৮ বছর
দেশজুড়ে আলোচিত একটি মামলা ঠান্ডা মাথার ধর্ষণ ও হত্যা, বিচার পেতে লাগে ১৮ বছর