নজরদারি করা হবে সেই বাঘিনীকে

শিকারির ফাঁদে আটকা পড়া সেই বাঘিনীকে সাফারি পার্কের বদলে সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে বন বিভাগ। তবে লোকালয় থেকে সবচেয়ে দূরের একটি পয়েন্টে তাকে ছেড়ে নজরদারি করা হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। যেমন করে সুন্দরবনের ভারত অংশে থাকা ৬টি বাঘকে নজরদারি করা হয়।
বন বিভাগ বেছে, সুন্দরবনে ছেড়ে আসার পরও স্যাটেলাইট কলার কিংবা মাইক্রোচিপের মতো কোনো কিছু।দিয়ে নজরদারি করা হবে।
বর্তমানে বাঘিনী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছে। ঢাকার বর অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শরকির খাল লাগোয়া সুন্দরবনে এ বছরের ৩ জানুয়ারি শিকারিরা ফাঁদে আটকা পড়ে এই বাঘিনী। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি বিশেষায়িত দল উদ্ধার করে পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠায়। ৫ মাসের চিকিৎসায় বাঘিনীটি সুস্থ হয়ে উঠেছে। বন বিভাগ বাঘিনীটিকে আবার সুন্দরবনে ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেজ প্রাণীটি আবার বনে ফিরতে পারে।
বাঘের জীবনকাল সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাঘিনীর বয়স ১০-১১ বছর। বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, প্রাণীটির ওজন ৮০ কেজির মতো। যেহেতু এটি আর ৩-৪ বছর বাঁচবে তাই সাফারি পার্কের চেয়ে সুন্দরবনে ছাড়াই ভালো। কারণ- অন্তত মুক্ত অরণ্যে তার মৃত্যু হোক।
বন অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাত জুলকারনাইন বলেন, বাঘিনীর সামনের বাম পায়ে ৩ ইঞ্চি চামড়া, মাংশপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে টানাটানির কারণে ক্ষত হয়ে পচন ধরে গিয়েছিল। ক্ষত হওয়া স্থানও ভরাট হয়ে লোম গজিয়েছে এখন।
বন অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমদ বলেন, ২০২৪ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে বাঘিনীটিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিনবার শনাক্ত করা হয়েছিল। সেই হিসাবে লোকালয় থেকে সবচেয়ে দূরের জায়গাটিতে এটিকে অবমুক্ত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এসআর







