• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ভারত সফরে যাচ্ছেন মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৯ মে ২০২৬, ০৩:০৩ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে আগামী মাসে ভারতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। আগামী জুনে মিন অং হ্লাইংয়ের সম্ভাব্য এই সফর দিল্লির সঙ্গে নেপিদোর অত্যন্ত গভীর কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিই নতুন করে সামনে আনছে, যা মূলত ভারতের দীর্ঘদিনের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির একটি অন্যতম অংশ।

পাঁচ বছর আগে একটি রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলকারী হ্লাইং জান্তা প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন মিয়ানমার শাসন করেছেন। তার শাসনামলে গোটা দেশজুড়ে তীব্র গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের নানা গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে সম্প্রতি এক বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদে আসীন হন মিন অং হ্লাইং এবং গত ১০ এপ্রিল দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। তবে মিয়ানমারের প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো শুরু থেকেই এই নির্বাচনকে একটি ‘প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করে আসছে। 

গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওই নির্বাচনে সু চির দলসহ দেশের বেশিরভাগ বিরোধী রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি এবং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা থাকা বেসামরিক রাজনীতিবিদরা তাতে অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন-এর খবর অনুযায়ী, মিন অং হ্লায়িংয়ের সেই বিতর্কিত শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং, যা দুই দেশের ধারাবাহিক ও শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্কেরই একটি বড় প্রতিফলন। 

সফরকালে ভারতের এই মন্ত্রী প্রেসিডেন্ট হ্লাইংয়ের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তা তার হাতে হস্তান্তর করেন। এ সময় নেপিদোতে ভারতের নিজস্ব অর্থায়নে একটি স্কুল প্রকল্প চালুর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক আরও বেশি জোরদার হয়েছে। চলতি মে মাসের শুরুতে ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠী মিয়ানমার সফর করেন, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে কোনো ভারতীয় নৌপ্রধানের প্রথম মিয়ানমার সফর ছিল। তিনি মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, যৌথ সামরিক মহড়া, সীমান্ত স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের নানা ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও প্রতিবেশী দেশ ভারত মিয়ানমারকে শুরু থেকেই উল্লেখযোগ্য মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। 

বিশেষ করে ২০২৫ সালের মার্চে মিয়ানমারে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার বিধ্বংসী ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর, নয়াদিল্লি ‘অপারেশন ব্রহ্মা’র আওতায় দ্রুত দেশটিতে বিশেষ বিমান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং একটি ফিল্ড হাসপাতাল টিম পাঠায়; যারা উপদ্রুত এলাকায় হাজার হাজার আর্তমানুষকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন।
ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিশ্বস্ত বন্ধু ওমানকেই ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের
বিশ্বস্ত বন্ধু ওমানকেই ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের
তালেবান-রাশিয়া সামরিক চুক্তি সই
তালেবান-রাশিয়া সামরিক চুক্তি সই
রেকর্ড দাবদাহের শঙ্কা, সতর্কবার্তা জাতিসংঘের
রেকর্ড দাবদাহের শঙ্কা, সতর্কবার্তা জাতিসংঘের