চাকিরপশার বিল রক্ষায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বহুল আলোচিত চাকিরপশার বিল রক্ষায় নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ডিজিটাল উদ্যোগ। বিলের সম্পূর্ণ আরএস দাগ নম্বরের তালিকা যুক্ত করা হয়েছে ওয়েবভিত্তিক একটি ডিজিটাল অনুসন্ধান প্ল্যাটফর্মে। এর মাধ্যমে এখন সহজেই জানা যাবে কোনো জমি বিলের অংশ কি না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার (১৮ মে) থেকে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মে বাংলা ও ইংরেজি-উভয় সংখ্যায় দাগ নম্বর লিখে অনুসন্ধান করা যাবে। ফলাফলে তাৎক্ষণিক দেখা যাবে সংশ্লিষ্ট জমির অবস্থান ও বিলের অন্তর্ভুক্তি। এতে জমি কেনাবেচা, দখল, মিউটেশনসহ বিভিন্ন জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটিতে মৌজাভিত্তিক পৃথক ফিল্টারও যুক্ত করা হয়েছে। এতে চাঁন্দামারী, নাফাডাঙ্গা, সওদাগড়, খালিসা ও চাকিরপশার তালুক-প্রতিটি মৌজার আলাদা তালিকা দেখার সুবিধা থাকছে।
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ কিংবা মিউটেশন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই তালিকা কার্যকর রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি আইনজীবী ও আদালত বিলসংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়েও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতারা সহজেই দাগ নম্বর যাচাই করতে পারবেন। এতে বিলের জমি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে প্রতারণার সুযোগও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহল বলছে, বিলের জমি দখল কিংবা পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু ডিজিটাল তালিকা তৈরি করলেই বিল রক্ষা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত জরিপ, কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
বিল সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আরিফ বলেন, বিলের জমি দখল, অবৈধ বিক্রি ও ভুল তথ্যের কারণে মানুষ নানা জটিলতায় পড়েছে। ডিজিটাল এই তালিকা জমি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং প্রতারণা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নিয়মিত হালনাগাদ ও মনিটরিংও জরুরি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউর রহমান বলেন, এখন জমি কেনা, লিজ নেওয়া বা ব্যবহার করার আগে সহজেই নিশ্চিত হওয়া যাবে জমিটি বিলের অংশ কি না। এতে ভুলবশত জমি কিনে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা কমবে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, এটি সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। এর ফলে বিলের জমিতে ভুলবশত স্থাপনা নির্মাণ বা চাষাবাদ করে আইনি ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা কমবে।
ভিওডি বাংলা/প্রহলাদ মন্ডল সৈকত/এফএ







