দুই সন্তানকে অপহরণচক্রের হাতে তুলে দেন বাবা

স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পেরে নিজের দুই সন্তানকে অপহরণচক্রের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এক মাস পর দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই। একই সঙ্গে শিশু পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এসব তথ্য জানান।
পিবিআই সূত্র জানায়, প্রায় সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সী আব্দুর রহমান জুবায়েত নামে দুই সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ লেগে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, মেজবাহ উদ্দিন একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রায়ই স্ত্রীর কাছে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মা।
পিবিআই বলছে, গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে শিশু দুটিকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় মেজবাহ উদ্দিনের সহযোগী ছিলেন তার পূর্বপরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানী। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে শিশুদের নিয়ে গিয়ে চক্রটি আলাদা দুটি স্থানে আটকে রাখে।
পরে বিভিন্ন সূত্রে মা জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্তানদের কোনো খোঁজ না পেয়ে গত ১৩ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। গত ১৮ মে গভীর রাতে বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে অপহরণচক্রের মূল সদস্য এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিন নামে এক নারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই ঘটনায় শিশুদের বাবা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক তদন্তে এমদাদুল হক রাব্বানীর বিরুদ্ধে সক্রিয় মানব পাচারচক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশু সংগ্রহ ও পাচারের কাজ করতেন তিনি। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া তদন্তে আরও জানা গেছে, মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে করারও অভিযোগ রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে নিজের সন্তানদের বিক্রি করার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের রিমান্ড এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে শিশুদের বাবা মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







