• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

দুই দশক পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে গাজায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২০ বছর পর গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গাজায় ২০০৬ সালের পর এই প্রথম কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গাজায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। পরে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ফাতাহকে গাজা থেকে সরিয়ে দেয় হামাস। ফাতাহ বর্তমানে পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

২০০৭ সালে ফাতাহকে গাজা থেকে উৎখাতের পর কার্যত সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর টানা দুই দশক সেখানে আর কোনো নির্বাচন হয়নি।

২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হয়। প্রায় দুই বছর সংঘাত চলার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল।

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা ছাড়তে হয়। নির্বাচিত সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত একটি অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। কয়েক মাস আগে সেই প্রশাসন গঠিত হয় এবং তাদের অধীনেই বর্তমান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গাজার রাজনীতিতে ফের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেখছে পশ্চিম তীরভিত্তিক পিএ জোট। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশও স্থানীয় এই নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

তাদের মতে, ফিলিস্তিনে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকাকে ঘিরে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া আরও এগোতে পারে।

পশ্চিমা কূটনীতিকদের ধারণা, দেইর আল-বালাহর নির্বাচন সফল হলে তা পুরো গাজাজুড়ে বৃহত্তর নির্বাচনের পথ তৈরি করবে এবং দুই দশক পর নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা জোরদার হবে।

গাজার নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহ পৌরসভা নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ৭০ হাজার ৪৪৯ জন। শহরের ১২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগই জাতিসংঘের সহায়তায় তাবু স্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পুরো গাজায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ইসরায়েলি অভিযানে অধিকাংশ শহর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত দেইর আল-বালাহতেই ভোট আয়োজন করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে শহরটিতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস এই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও হামাস-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি প্রার্থী হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদহাম আল-বারদিনি নামের এক তরুণ ভোটার বলেন, “আমি জন্মের পর থেকে নির্বাচনের কথা শুধু শুনে এসেছি। আজ নিজের চোখে দেখলাম নির্বাচন ব্যাপারটা আসলে কী।”

“আমরা এতে অংশ নিতে আগ্রহী। কারণ যে বাস্তবতা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে— আমরা তার পরিবর্তন চাই।”

ভিওডি বাংলা/বিন্দু/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার
চুক্তি হলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে প্রস্তুত ইইউ
চুক্তি হলে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে প্রস্তুত ইইউ
ক্যানসারে আক্রান্ত নেতানিয়াহু?
ক্যানসারে আক্রান্ত নেতানিয়াহু?