মঙ্গলের মাটিতে জটিল জৈব অণু, প্রাণের সম্ভাবনায় নতুন আশা

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না-দীর্ঘদিনের সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-এর রোভার Curiosity লাল গ্রহের মাটিতে এমন কিছু জটিল জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে, যা পৃথিবীতে জীবনের মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি প্রাচীন শুকনো হ্রদের তলদেশ থেকে মোট সাত ধরনের জৈব অণু শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি অণু আগে কখনো মঙ্গলে পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দেয়-মঙ্গলে অতীতে যদি অণুজীবের অস্তিত্ব থেকেও থাকে, তার রাসায়নিক চিহ্ন এখনো মাটির নিচে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
গবেষণার প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগের সংরক্ষিত জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছি। তবে এটি সরাসরি ‘জীবন’ কি না, তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আমরা যা পেয়েছি তা ডিএনএ তৈরির উপাদানের মতো সহজ কথায় বলতে গেলে এটি ইটের মতো। তবে মনে রাখতে হবে ইট মানেই কিন্তু আস্ত বাড়ি নয়, যদিও বাড়ি তৈরির জন্য ইট অপরিহার্য।’
তার ভাষায়, “পৃথিবীতে যখন জীবনের সূচনা হচ্ছিল, তখন মঙ্গলেও তরল পানির উপস্থিতি ও একটি সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডল ছিল। ফলে সেখানে জীবন শুরু না হওয়ার কোনো সুস্পষ্ট কারণ নেই।”
এর আগে ধারণা করা হতো, মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডল এবং তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণের কারণে গ্রহটির পৃষ্ঠে থাকা সব জৈব উপাদান ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে কিউরিওসিটির সাম্প্রতিক আবিষ্কার সেই ধারণায় পরিবর্তন আনছে। নতুন তথ্য বলছে, মঙ্গলের ভূগর্ভস্থ স্তরে জটিল জৈব অণু কোটি কোটি বছর ধরে অক্ষত থাকতে পারে।
সূর্যের কাছে গিয়ে গ্রহাণুর বিস্ফোরণ, জন্ম নিচ্ছে নতুন উল্কাবৃষ্টি
এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিশেষ করে European Space Agency-এর ‘Rosalind Franklin’ রোভার মিশনকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকা এই রোভার মঙ্গলের মাটির প্রায় দুই মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করতে সক্ষম হবে। ফলে জৈব অণুর উৎস ও প্রকৃতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের অনুসন্ধান শুধু মঙ্গলে জীবনের সম্ভাবনা যাচাই নয়, বরং মহাবিশ্বে প্রাণের উৎপত্তি ও বিস্তার সম্পর্কেও নতুন ধারণা দিতে পারে। কারণ, যদি মঙ্গলের মতো প্রতিকূল পরিবেশেও জৈব উপাদান টিকে থাকতে পারে, তাহলে অন্য গ্রহ বা উপগ্রহেও জীবনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature Communications-এ প্রকাশিত হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







