অভিনব চোর চক্রের উপদ্রবে, অন্ধকারে অর্ধশতাধিক পরিবার

কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় এক অভিনব চোর চক্রের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা কোনো টাকা পয়সা বা মূল্যবান আসবাবপত্র নয়, বরং টার্গেট করছে গ্রাহকের বাড়িতে সংযোগ দেওয়া বিদ্যুতের তার। গত কয়েক দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের খুঁটি থেকে ঘরের মিটার পর্যন্ত সংযোগকারী তার কেটে নিয়ে গেছে এই চক্রটি। এ নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২১ এপ্রিল) সরজমিনে সদরের বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী সাথে কথা হলে তার চোর চক্রের বিষয়ে নানান কথা বলেন।
এসময় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি সাধারণত গভীর রাতে যখন বিদ্যুৎ থাকে না বা যখন মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে গ্রাহকের ঘরে প্রবেশ করা মেইন লাইনের তারগুলো কেটে নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই একটি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তারা তারের বিশাল কুণ্ডলী নিয়ে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ শহরের আশপাশের এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টিরও বেশি বাড়িতে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিশোরগঞ্জ সদর ৩২ এলাকার নয়ন সরকার ও মারিয়া ইউনিয়নের চর মারিয়া গ্রামের হৃদয় নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, সকালে উঠে দেখি ঘরে কারেন্ট নেই। বাইরে গিয়ে দেখি খুঁটি থেকে আমার মিটারের তার উধাও। এখন নতুন করে তার কিনতে আর ইলেকট্রিশিয়ান ডাকতে বাড়তি কয়েক হাজার টাকা খরচ হবে। এভাবে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে তারা বলেন একবার তার কেটে নিয়ে গেছে ভয়ে আছি আবার কি নিয়ে যাবে আমরা এখন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছি।
ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক তারের ভেতরে থাকা দামী তামা (Copper) বা অ্যালুমিনিয়াম সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই চুরি করা হচ্ছে। ভাঙারি বাজারে এসব ধাতুর উচ্চমূল্য থাকায় এই সংঘবদ্ধ চক্রটি এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
এই গণহারে তার চুরির ঘটনায় কিশোরগঞ্জ শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও তুলপাড়’ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করলেও চোরদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
যেসব দোকানে এসব চোরাই তার বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে তল্লাশি চালানো।
এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা। বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই চুরির ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
ভিওডি বাংলা/মো. ওমর সিদ্দিক রবিন/জা







