রাঙ্গাবালীতে ঘেরের লিজ ও দখল নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৭

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি মাছের ঘেরের লিজ ও দখল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া চরে এ সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি ঘেরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাঙ্গাবালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মু. সাইদুজ্জামান মামুন খানের বাবা আলম খান গত ১৭ বছর ধরে মাদারবুনিয়া চরের ওই ঘের ভোগদখলে রাখেন বলে জানা গেছে।
তবে ৫ আগস্টের পর স্থানীয় একটি পক্ষ ওই জমির মালিকানা দাবি করে ঘেরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস আগে আলম খান ঘেরটি এক বছরের জন্য সদর ইউনিয়নের কাজীর হাওলা গ্রামের রত্তন হাওলাদারসহ চারজনের কাছে ‘একসনা’ ভিত্তিতে লিজ দেন। লিজগ্রহীতারা চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দখলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে তারা ঘের দখল নিতে গেলে সংঘর্ষ বাধে।
মঙ্গলবার দুপুরে লিজগ্রহীতা পক্ষ ঘেরটি দখল নিতে গেলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায় এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষে জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের শাহ জামাল (৪৫), শেফালী বেগম (৩০), রাজ্জাক শিকদার (৬৫), রহিম খান (৫৫) ও ওহাব মাতুব্বর (৫০) আহত হন।
অন্যদিকে লিজগ্রহীতা পক্ষের রত্তন হাওলাদার (৫৫) ও মোখলেছুর রহমান (৪৫) আহত হয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে আহতদের মধ্যে শাহ জামাল, শেফালী বেগম, রাজ্জাক শিকদার ও রহিম খানের অবস্থার অবনতি হলে তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।
জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের ওহাব মাতুব্বর বলেন, '২০ একরের এই ঘেরে আলম খানের জমি দেড় একরেরও কম। বাকি মালিকরা দীর্ঘ ১৭ বছর বঞ্চিত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর আমরা আমাদের জমি বুঝে নিয়েছি। কিন্তু একদল লোক ঘেরটি আমাদের কাছ থেকে দখল করে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করতেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোখলেছুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুকুর ফরাজী ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক হিরণ সরদারের নেতৃত্বে একদল লোক ঘেরটি দখলে নিতে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়েও হামলা করা হয়েছে।'
অন্যদিকে লিজগ্রহীতা রত্তন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা আড়াই লাখ টাকায় ঘেরটি লিজ নিয়েছি এবং সেখানে ৫৩ মণ মাছ চাষ করেছি। কিন্তু কিছু লোক মামলা সাজিয়ে এবং মারধর করে জোর করে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়ে আজ সেখানে গিয়েছিলাম। তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে।'
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, 'আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
স্থানীয়দের মতে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভিওডি বাংলা/মো. কাওছার আহম্মেদ/জা







