• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

টিকিটের নামে প্রতারণা

ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পি.এম.
ফ্লাইট এক্সপার্ট
ছবি: সংগৃহীত

কয়েকশ গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে টিকিটের অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে বিমান টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৭ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

এ মামলার আসামিরা হলেন- সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, ফ্লাইট এক্সপার্ট), এম এ রশিদ শাহ সম্রাট (প্রেসিডেন্ট), আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম (পরিচালক), এ কে এম শাহদাত হোসেন (পরিচালক), আব্দুল গণি মেহেদী (পরিচালক), মো. সাকীব হোসেন (হেড অব ফাইন্যান্স) এবং মোতাহের হোসেন (স্বত্বাধিকারী, সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস)।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা প্রদান করতে থাকে। ২০১৯ সালে FEBD নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণ করলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্লাইট এক্সপার্ট ও FEBD উভয় নামেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করতো।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি (Business to Business) এবং বি-টু-সি (Business to Consumer) উভয় পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দেশ ত্যাগ করেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, FEBD-এর নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ পরবর্তীতে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ (IATA) অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪,৬৯,৩১,০৯০ টাকা আত্মসাৎ ও পরবর্তীতে তা বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত সিআইডি কর্তৃক পরিচালিত হবে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফাইল ছবি
অর্থ পাচার: কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
ছবি: ভিওডি বাংলা
রাজধানীতে উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার দুইজন কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত
কোরআনের তাফসির গ্রন্থ পোড়ানোর মামলায় মেহেদী কারাগারে