• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ভারত থেকে পাইপলাইনে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করেছে। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত পদ্মা অয়েল কোম্পানির রেলহেড ডিপোতে আসা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পার্বতীপুর পদ্মা অয়েল ডিপোর সরকারি ব্যবস্থাপক মো. আহসান হাবীব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা ডিপোতে জমা হচ্ছে।

ডিপো সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে, তা পুরোপুরি পৌঁছাতে আনুমানিক ৫০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে এবং বাকি অংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে, সর্বশেষ গত ১৪ এপ্রিল ভারতের আসামের নুমালীগড় থেকে একই পাইপলাইনের মাধ্যমে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুরে আসে। তারও আগে মার্চ মাসে এসেছে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান চালান শেষ হওয়ার পর খুব শিগগিরই আরও একটি চালান আসবে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে করে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পটি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আমদানি করায় পরিবহন খরচ ও সময় উভয়ই কমছে, পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হচ্ছে। আগে যেখানে জ্বালানি তেল আমদানিতে সমুদ্রবন্দর ও ট্যাংকারের ওপর নির্ভরতা ছিল, সেখানে এখন পাইপলাইন একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১১ মার্চ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন চালানের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ, মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, চলমান সরবরাহ কার্যক্রম সচল রাখতে শুক্রবার ছুটির দিনেও পার্বতীপুর ডিপোর কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিজেল গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং পরবর্তী বিতরণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিপো সূত্র আরও জানিয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে মোট পাঁচ ধাপে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একাধিক চালান এসে পৌঁছেছে এবং বাকি চালানগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আসবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে করে সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমে যাচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে ডিজেলের চাহিদা বেশি থাকায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ডিজেল আমদানি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সৌরবিদ্যুৎ খাতেই ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য
সৌরবিদ্যুৎ খাতেই ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য
বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ওপর চাপ, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা
বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ওপর চাপ, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল