• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মাজার-খানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান মইনীয়া যুব ফোরামের

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৯ পি.এম.
প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়: ছবি-ভিওডি বাংলা

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে মইনীয়া যুব ফোরাম। সংগঠনটি মাজার, খানকা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী। এতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্প্রীতি আজ হুমকির মুখে। ভিন্নমতের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন মাজার, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার-নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মানবাধিকার রক্ষা এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার জন্য জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মাজার, খানকা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে তারা উল্লেখ করেন।

এ সময় সরকারের কাছে ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবগুলো হলো-

১. সকল নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাজার ও খানকার নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি ও নজরদারি বৃদ্ধি।
২. সহিংসতা, বিদ্বেষ ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
৩. চুরি, ডাকাতি, খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
৪. মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান।
৫. সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা।
৬. সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান।
৭. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, মানবাধিকার রক্ষা এবং মাজার-খানকাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশের প্রয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক
দেশের প্রয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক
বেশিরভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকা, কমছে মুরগির দাম
বেশিরভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকা, কমছে মুরগির দাম
কমলাপুরে অপহৃত শিশু উদ্ধার
কমলাপুরে অপহৃত শিশু উদ্ধার