ক্লিক করলেই দেখা যাবে কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে তেল

জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমদানি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে তেল—সব তথ্যই এখন এক ক্লিকেই দেখা সম্ভব হবে। এতে অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনাও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ জন্য একটি কেন্দ্রীয় সেন্ট্রাল ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা ও গবেষক প্রকৌশলী জাকারিয়া মল্লিক।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কয়েক বছর ধরেই দেশের শিল্প-কলকারখানা নানা সমস্যার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
চালকরা জানান, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের মতে, সিস্টেম উন্নত না হলে এই ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছেন জাকারিয়া মল্লিক। তার প্রস্তাবিত সিস্টেমে এলসি খোলা থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা জ্বালানির হিসাব একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালে ট্র্যাক করা যাবে।
তিনি জানান, যানবাহনের লাইসেন্স নম্বর দিয়ে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। ফিলিং স্টেশনে গিয়ে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে গাড়ি সিস্টেমে যুক্ত হবে এবং কত লিটার জ্বালানি নেওয়া হলো, তা সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে আপডেট হবে।
এই ব্যবস্থায় যানবাহনের ধরন অনুযায়ী আলাদা তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। একইভাবে শিল্প, বাণিজ্যিক খাত ও আবাসিক ব্যবহারের জ্বালানিও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। প্রয়োজন হলে অবৈধ যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।
জাকারিয়া মল্লিক বলেন, “শুধু লাইসেন্সধারী যানবাহনকে ফুয়েল দেওয়া হলে অবৈধ যানবাহন ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা হলো তথ্যের অভাব ও অস্বচ্ছতা। একটি স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “একটি ডিপো থেকে কত তেল বের হলো এবং কোন গাড়িতে কত গেল—সব তথ্য ট্র্যাক করা গেলে পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে।”
তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা বলছেন, বিদ্যমান প্রযুক্তি ব্যবহার করেই স্বল্প খরচে এমন একটি ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা সম্ভব। এতে কোনো গাড়ি কত জ্বালানি নিল, তা রিয়েল টাইমে দেখা যাবে এবং অনিয়ম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ট আসবে।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “একই গাড়ি বারবার তেল নিতে গেলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি শনাক্ত করতে পারবে এবং আগের তথ্য দেখিয়ে দেবে।”
এদিকে সরকার দাবি করছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, পাম্প মালিকরাও সংকটের কথা অস্বীকার করছেন। তবে বাস্তবে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই তেল আসলে যাচ্ছে কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে না এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনাও কার্যকর হবে না।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ/এসআর







