মনে পড়ে ২০০১ সালের সেই রক্তাক্ত সকাল? আজ সেই দিন

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের সকালে রাজধানীর রমনা পার্কের বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংঘটিত ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৯ জন এবং পরবর্তীতে আরও একজন মারা যান। আহত হন বহু মানুষ।
সেই সময়ের এই হামলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংস ঘটনার একটি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হয়।
ঘটনার পর থেকে রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়। প্রতিবছরই সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়।
ছায়ানট এই ঘটনার পরও তাদের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অব্যাহত রেখেছে, যা এখন বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
আজও এই দিনটি এলেই রমনা বটমূল হয়ে ওঠে স্মৃতি, শোক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিজ্ঞার এক মিশ্র অনুভূতির কেন্দ্র। একদিকে নববর্ষের আনন্দ, অন্যদিকে ইতিহাসের বেদনাদায়ক স্মৃতি—দুই অনুভূতি একসঙ্গে বাঙালির চেতনায় প্রতিফলিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি হামলা নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ওপর একটি বড় আঘাত ছিল, যার প্রভাব এখনো সমাজে অনুভূত হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) এই হামলায় জড়িত ছিল। ২০০১ সালের ওই ঘটনার পর রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে সিআইডি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস







