মানি মার্কেটে সুদের হার নির্ধারণে বড় পরিবর্তন

দেশের মানি মার্কেটে সুদের হার নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন ব্যাংকগুলোর ঘোষিত রেটের ওপর নির্ভর করে যে রেফারেন্স হার নির্ধারিত হতো, তা থেকে সরে এসে এবার সরাসরি বাজারের প্রকৃত লেনদেনকে ভিত্তি করে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত জামানতভিত্তিক এক রাতের অর্থায়ন হার বা সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (সো-ফর) মডেলের আদলে তৈরি এই কাঠামো ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। রেফারেন্স রেটটি প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ‘ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট’ বা ডিবোর ব্যাংকগুলোর ঘোষিত অফার রেটের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে অনেক সময় বাস্তব বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত হতো না, বিশেষ করে কিছু ব্যাংক নিয়মিত তথ্য না দেওয়ায়। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই লেনদেনভিত্তিক নতুন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী দুটি পৃথক রেফারেন্স রেট প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (বিওএফআর বা বো-ফর), যা জামানতভিত্তিক বা সুরক্ষিত অর্থায়ন লেনদেনের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে। অন্যটি হলো ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট, যা জামানতবিহীন আন্তব্যাংক কলমানি লেনদেনের ভিত্তিতে তৈরি হবে। এই দুই সূচক একসঙ্গে বাজারের তারল্য, ঝুঁকি এবং প্রকৃত ঋণ ব্যয়ের একটি স্বচ্ছ চিত্র দেবে।
নতুন ব্যবস্থায় কোনো ব্যাংকের ব্যক্তিগত ধারণা বা ইচ্ছার ভিত্তিতে হার নির্ধারণের সুযোগ থাকছে না। প্রতিদিনের বাস্তব লেনদেনের গড় হিসাবের ভিত্তিতেই সুদের হার নির্ধারিত হবে। বিওএফআরের ক্ষেত্রে ওভারনাইট ও এক সপ্তাহ মেয়াদের হার প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে কলমানি রেট ওভারনাইট, এক সপ্তাহ, এক মাস এবং তিন মাস মেয়াদে পাওয়া যাবে। অস্বাভাবিক বা বিচ্ছিন্ন লেনদেনের প্রভাব কমাতে বিশেষ পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যাতে হার স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে। কোনো দিনে লেনদেন কম হলে আগের কার্যদিবসের তথ্য যুক্ত করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই উদ্যোগ দেশের আর্থিক বাজারে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সুদের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করবে। এতে ঋণের সুদ নির্ধারণ, বন্ড মূল্যায়ন এবং ভাসমান সুদের আর্থিক পণ্য আরও সহজ ও বাস্তবভিত্তিক হবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ পণ্য তৈরির সুযোগ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের বাজার আরও আস্থাশীল হয়ে উঠবে।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে নতুন হার প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এখন থেকে প্রতিদিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এই রেফারেন্স রেট প্রকাশ করা হবে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
ভিওডি বাংলা/এমএস







