‘মঙ্গল’ নাম বজায় রেখেই শোভাযাত্রা করবে বর্ষবরণ পর্ষদ

চিরায়ত সংস্কৃতি ও নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ‘মঙ্গল’ নাম বজায় রেখেই শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এই উৎসব উদযাপিত হবে।
‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হবে। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। শোভাযাত্রা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তক্ষশীলা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাদিমুল ইসলাম বলেন, “দেশের সৃজনশীল এবং প্রগতিশীল কিছু ব্যক্তি যারা বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চায় তারাই মূলত এই আয়োজন করছে।”
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মধ্যে ইদানিং ইউরোপ আমেরিকার অনুকরণ করে বিকট শব্দ করে আতশবাজি ফুটিয়ে পাখি হত্যা করে তাদের বর্ষবরণ উদযাপন করার প্রবণতা দেখা যায়। অপরদিকে আরবদের সংস্কৃতি হলো সন্ধ্যাবেলা চাঁদ দেখে নতুন বছর শুরু করা।”
নাদিমুল ইসলাম জানান, বাঙালি সংস্কৃতি হলো সকালে বর্ষবরণ করা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উদযাপনের রীতি হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। তাই নতুন প্রজন্মকে জানাতে সকল ত্রুটি বিচ্যুতি বাদ দিয়ে এই আয়োজন।
উল্লেখ্য, বাংলা নববর্ষের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই বর্ণাঢ্য মিছিলটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের (বর্তমানে অনুষদ) উদ্যোগে। তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আবহে লোকজ ঐতিহ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে এই আয়োজন শুরু হয়।
সাড়ে তিন দশকের পথচলায় এই উৎসবটির নাম কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে শুরুর বছর এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। অমঙ্গল দূর করে মঙ্গলের আহ্বানে ১৯৯০ সালে এর নাম রাখা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।
এই নামেই এটি দীর্ঘ সময় বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করে। এক বছরের মাথায় সরকার বর্তমান বছরে এর নতুন নাম নির্ধারণ করেছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো এই আয়োজনকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ (অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।





