প্রতিটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমরা এখন পর্যন্ত হাম-রুবেলা রোগটিকে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন লক্ষ্য প্রতিটি শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই হামের সংক্রমণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। একটি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে গভীর রাতেও জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়। দ্রুত একটি আইসিইউ চালুর মাধ্যমে এই সংক্রমণ মোকাবিলার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তিনি জানান, সরকারের পাশাপাশি ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে হামের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এর গতি নিম্নমুখী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫ তারিখ থেকে দেশের ১৮টি জেলা ও ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ থেকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের শতভাগ টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের অভিজ্ঞ জনবলকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি অলি-গলিতে টিকাদান কার্যক্রম পৌঁছে দিতে হবে এবং জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
একই সঙ্গে আসন্ন ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পুরনো টায়ার, কমোড বা নারকেলের খোসায় পানি জমে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে জনগণকে সচেতন করার ওপর জোর দেন তিনি।
মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের মান নিয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিক মাত্রায় ওষুধের মিশ্রণ নিশ্চিত করতে হবে, না হলে কার্যকরভাবে মশা নিধন সম্ভব হবে না।
অনুষ্ঠানের শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় টিকাদান কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের রিপ্রেজেন্টেটিভ আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/এসআর







