সাইলেন্ট হ্যান্ডসের উদ্যোগে নতুন ঘর পেলেন প্রতিবন্ধী জমেলা

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা হতে পারেনি পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডেফলচড়া গ্রামের জমেলা খাতুনের (৪২)। দীর্ঘ ২১ বছরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই গ্রামের শত শত নারী ও শিশুকে পবিত্র কোরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি। তবে, জরাজীর্ণ ঘর আর রোদ বৃষ্টির বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে চলা এই ‘কোরআনের পাঠশালা’ পেয়েছে নতুন রুপ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে জমেলার পাঠশালার শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটির পাবলিক রিলেশন অফিসার তরিকুল ইসলাম আদনান। নতুন ঘর পেয়ে উচ্ছসিত জমেলা খাতুন ও তার শিক্ষার্থীরা।

বেজায় খুশি পুরো উপজেলার মানুষ। স্থানীয়রা মনে করেন, জমেলা খাতুনের এই গল্প সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মহৎ কাজের অন্তরায় নয়, জমেলা তার এক জীবন্ত উদাহারণ।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২১ বছরের নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতি পেলেন প্রতিবন্ধী জমেলা জমেলা খাতুন। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই নারীর জীবনে এলো বড় পরিবর্তন। জমেলা খাতুনের ধর্মের জন্য নিঃস্বার্থ সেবার খবর পেয়ে এগিয়ে আসে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি।
সংগঠনটির অর্থায়নে জমেলার জরাজীর্ণ ঘরের সামনে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এক মজবুত নতুন ঘর। শুধু থাকার ঘরই নয়, কোরআন পড়ানোর জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছে একটি আলাদা সুপরিসর কক্ষ। সেখানে বসানো হয়েছে কার্পেট। আগে যেখানে রোদ-বৃষ্টিতে পাঠদান বন্ধ থাকত, এখন সেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে কোরআন শিখতে পারবে। এছাড়া তার বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট ও অযুখানা, যা তার দৈনন্দিন জীবনে এনেছে স্বস্তি। শুধু কী তাই, উপহার হিসেবে জমেলা খাতুন পেয়েছেন নতুন খাট, জামা-কাপড় ও হুইল চেয়ার। দীর্ঘদিনের অযত্ন আর অবহেলা কাটিয়ে জমেলা খাতুন এখন এক সুন্দর পরিবেশে ধর্মের বাণী প্রচার করতে পারবেন।
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবেগতাড়িত কন্ঠে জমেলা খাতুন বলেন, ‘আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকতে পেরেই আমি খুশি। আমার কষ্টের কথা জানার পর সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটি আমার জন্য যা করল আমি আমৃত্যু মনে রাখব। এখন স্বস্তিতে ঘুমাতে পারব, পড়াতে পারব। এখন আমার শিক্ষার্থীরা শান্তিতে পড়তে পারবে, এটাই আমার বড় পাওয়া।’
জমেলার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা গর্বিত এমন মন্তব্যে করে সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাজ মম বলেন, জমেলা খাতুনের মতো মানুষ সমাজের প্রকৃত সম্পদ। তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা ভুলে ২১ বছর ধরে যে সেবা দিয়ে আসছেন, তা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যারা সমাজের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন, তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই, সমাজের প্রতিটি জমেলা খাতুন যেন সম্মান, নিরাপত্তা ও সহায়তা পান।
ভিওডি বাংলা/এম এস রহমান/জা







