ইরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবো: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করবে। দেশটিতে ফলপ্রসূ সরকার পরিবর্তন ঘটেছে। সেখানে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দুই দেশ বর্তমানে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার রাতে ইরানকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ জন্য দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসেন। এর আগে তিনি অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে ওই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫টি প্রস্তাবের অনেকগুলোতেই দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে কথা বলছি এবং সামনেও বলব।” ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মন্তব্যের পর ইরানের সাধারণ মানুষ এবং বিশ্ব শেয়ার বাজারে স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং দুই পক্ষই তাদের নিজস্ব দাবিগুলোতে অনড় রয়েছে।
বুধবার ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনও দেশ যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের রপ্তানি করা পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
উল্লেখ্য, বেইজিং ও মস্কো দীর্ঘকাল ধরে ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী হতে সহায়তা করেছে।
তবে ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় রাশিয়া ও চীন তাদের সমর্থনে কিছুটা সংযত ছিল।
মাটির নিচের ইউরেনিয়াম একসঙ্গে অপসারণ:
গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর যেসব ইউরেনিয়াম মাটির নিচে চাপা পড়েছে সেগুলো ইরানের সঙ্গে একযোগে কাজ করে অপসারণ হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, দেশটিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ সরকার পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে!”
তিনি আরও লেখেন, “ইরানে আর কোনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। ইরানের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র মাটি খুঁড়ে চাপা পড়া সব পারমাণবিক ‘ধূলিকণা’ (বি-২ বোমারু বিমান হামলার পর মাটির নিচে চলে যাওয়া ইউরেনিয়াম) অপসারণ করবে।
“গত বছরের জুনের ওই হামলার পর থেকে স্থাপনাগুলোর কোনও কিছুই এখনও স্পর্শ করা হয়নি,” লেখেন তিনি।
তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির অস্ত্র তৈরির উপেযোগী ইউরেনিয়ামের মজুদ এখনো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
তাছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতাও তেহরান এখনও বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে, কয়েক মাস আগে গণবিক্ষোভের মুখে পড়া ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব এই প্রবল আক্রমণের মধ্যেও অভ্যন্তরীনভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







