যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ২৫৪

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুতসহ লেবাননের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরাইল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। বৈরুতের আকাশ বর্তমানে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং শহরজুড়ে আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।
লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স নিরবিচ্ছিন্নভাবে হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিকতার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই অভিযানকে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো ‘সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত আঘাত’ হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন বিপার্স’-এর পর এটিই হিজবুল্লাহর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করছে, যদিও অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছিল যে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইসরাইলের এই বিধ্বংসী হামলা সেই আশার ওপর জল ঢেলে দিয়েছে।
লেবাননে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী জিনাইন হেনিস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কোনো পক্ষই এভাবে হামলা চালিয়ে বিজয় অর্জন করতে পারবে না। তিনি ২০০৬ সালের ১৭০১ নম্বর রেজোলিউশনের ভিত্তিতে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নতুন দফার যুদ্ধে লেবাননে এ পর্যন্ত ১,৫৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/এসআর







