৮৫ লাখ টাকায় আ. লীগ অফিস বিক্রি করল নেতারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত দেড় বছর ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোপনে দলের অফিস ৮৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয় কয়েক মাস আগে।
যদিও জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল ওই নেতারা অফিস বিক্রি করার কথা অস্বীকার করছেন। সরকারের পতনের পরপরই আত্মগোপনে চলে যান জেলায় দলটির সব পর্যায়ের পদধারী নেতারা। দলের সংসদ সদস্য, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করে একের পর এক মামলা দেয়া হয়। ৫ আগস্টের পর জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কেউ কারও খোঁজখবরও করেননি। এরমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং নেতা আটক হয়ে কারান্তরীন হন।
এমন অবস্থায় গত ৮/১০ মাস আগে শহরের মৌলভীপাড়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের নতুন ভবন ও কমার্শিয়াল কাম শপিং কমপ্লেক্স মার্কেট যা সমবায় মার্কেট হিসেবে পরিচিত সেখানে আওয়ামী লীগের অফিস করার জন্য ক্রয় করা ৩টি দোকানঘর বিক্রি করে দেয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যে ভবনে জেলা কার্যালয় ছিল সেখানে প্রথম তলার পশ্চিম দিকের সারিতে দোকানঘরের একটিতে ‘স্টুডেন্ট গার্মেন্টস’ এবং ‘শুটিং সেন্টার ও স্টার টেইলার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং সেলাইয়ের ৩টি দোকান রয়েছে।
স্টার টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী সালাম চৌধুরী জানান, দোকান ৩টির মালিক এখন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আল মামুন সরকারের কাছ থেকে ৮৫ লাখ টাকার বিনিময়ে এগুলো ক্রয় করেছেন বলে তার দাবি।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা দোকান বিক্রির কথা স্বীকার করছেন না।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম খোকন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, দোকানগুলো সেল করার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঢাকায় একটা মিটিং করে দোকানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জেলায় মোট ১৯টি মামলা হয়। এসব মামলার এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা ১৩৬২ জন। অজ্ঞাত আসামি ২৩ হাজার ৬৪০ জন। তবে দলীয় নেতাদের দাবি মামলার সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এরমধ্যে সদরে ১৭টি, বিজয়নগরে ৩টি, নাসিরনগরে ১টি, সরাইলে ৩টি, আশুগঞ্জে ৬টি, নবীনগরে ৩টি, কসবায় ৪টি, আখাউড়ায় ৬টি এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৩টিসহ মোট ৪৬টি মামলায় ৪৮৮০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ/এমএস







