• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

হাইকোর্টের বিচারপতি নূরউদ্দিনের পদত্যাগ

   ৩০ জানুয়ারী ২০২৫, ০৩:৫০ পি.এম.
ফাইল ছবি

আদালত প্রতিবেদক 

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী হওয়ার অভিযোগে ছুটিতে পাঠানো হাইকোর্টের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সোয়া দুইটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসন বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শফিকুল ইসলামের পাঠানো এই বার্তায় বলা হয়, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কর্তৃক অনুসন্ধান পরিচালনাধীন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
 
গত বছর ১৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান ও বিক্ষোভের মুখে হাইকোর্টের যে ক’জন বিচারককে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ; শাহেদ নূরউদ্দিন তাদের একজন।
এরপর থেকে ছুটি নিয়ে তিনি বিচারকাজের বাইরে ছিলেন। 

গত ৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জানায় বেশ কয়েকজন বিচারকের আচরণ সংক্রান্ত প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে এবং এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। পরে ১৫ ডিসেম্বর জানায়, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে কয়েকজন বিচারপতির তথ্যা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছে। এরপর গত ৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে নির্দেশ দিলে অনুসন্ধান শুরু হয়।

গত ১৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান ও বিক্ষোভের মুখে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ হাইকোর্টের ১২ জন বিচারককে বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। এরপর থেকে তারা বিচারকাজের বাইরে আছেন।

সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ১২ জন বিচারপতি ছুটির আবেদন করলে তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। ধারাবাহিকভাবে তাদের ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

এই ১২ জন বিচারক হলেন- বিচারপতি আতাউর রহমান খান, বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি খিজির হায়াত, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভিযোগ, এই বিচারকরা পতিত শেখ হাসিনা সরকারের দোসর। আদালতকে ব্যবহার করে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

এই ১২ জন বিচারপতি ছুটিতে থাকার মধ্যে গত ১৯ নভেম্বর অসদাচরণের অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতি। তারা হলেন- সালমা মাসুদ চৌধুরী, কাজী রেজা-উল হক এবং এ কে এম জহিরুল হক।

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট অসদাচরণের অভিযোগে বিচারকাজ থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বেতন-ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন তারা। এর মূল কারণ ছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত ও অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে গত ২০ অক্টোবর রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত। সাত বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই রায় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। পরে এ রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করতে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সেই আবেদন নিষ্পত্তি করে রায় দেন। এ রায়ের ফলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ফেরে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। 

১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে।

ভিওডি বাংলা/এম


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শেখ হাসিনাসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি ৭ জুন
জাহাজবাড়িতে ৯ হত্যা শেখ হাসিনাসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে শুনানি ৭ জুন
নিজাম হাজারীসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
টমটমচালক হত্যা নিজাম হাজারীসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ
আইনজীবী স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ