ভাঙ্গুড়ায় মহিলা ডিগ্রি কলেজে ফরম ফিলাপ নিয়ে বিতর্ক

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বছরে মহিলা ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পড়া ‘আত্মহত্যার হুমকি’ সংক্রান্ত ভিডিও ভুয়ো ও প্ররোচিত বলে স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
র্এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চললেও তদন্ত শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। কলেজ সূত্র জানায়, সারাদেশের ন্যায় কলেজেও ফরম ফিলাপের জন্য নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মোট ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ফলাফল অনুযায়ী ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের ফরম ফিলাপের অনুমতি দেয়া হয়নি।

পরবর্তীতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা কলেজ গভর্নিং বডির কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে আবেদন করে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ চায়। তাদের দাবি বিবেচনা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও গভর্নিং বডি সহানুভূতি দেখিয়ে পুনরায় একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পুনঃপরীক্ষায়ও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি। কলেজ জানায়, ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ইংরেজি বিষয়ে শূন্য থেকে মাত্র ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে, যা তাদের প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্ট করে।
এরপর মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে শিক্ষার্থীরা ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমানের কাছে অভিযোগ জানাতে যায়। এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা ফরম ফিলাপ না হলে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে। ভিডিওটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে এবং কিছু বেনামী অনলাইন পোর্টালেও প্রকাশিত হয়।
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা করে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে সাংবাদিক পরিচয়ে তিন জন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের এমন বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করেন। তারা শিক্ষার্থীদের বোঝান, আত্মহত্যার হুমকি দিলে প্রশাসন চাপের মুখে ফরম ফিলাপের সুযোগ দিতে বাধ্য হবে। প্ররোচনার প্রভাবে শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে এমন হুমকি দেন।
পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়। তারা জানায়, মূলত অন্যের প্ররোচনায় এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কখনো আত্মহত্যা নয়। তারা আগামী বছর আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকরভাবে বিষয়টি ছড়ানো হয়েছে, যা কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করি এবং নিয়মের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্ররোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের মানসিক সচেতনতার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ঘটনা বা গুজব যাতে ছড়ায় না তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







