• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নাগরিক সচেতনতা ছাড়া ‘শূন্য বর্জ্য’ সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪০ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য কার্যক্রম বাস্তবায়ন ঢাকা শহর বা বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে কঠিন হলেও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে পারলে এটি সম্ভব।

তিনি বলেন, নাগরিকরা সচেতন না হলে সিটি করপোরেশন বা কোনো কর্তৃপক্ষ এককভাবে পূর্ণ ফলাফল আনতে পারবে না।

সোমবার, ৩০ মার্চ দুপুরে আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবস উপলক্ষে নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শূন্যের কোটায় আনতে হলে জনগণ ও সিটি করপোরেশন—উভয়েরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। “জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ, আর সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ। আমরা যদি আমাদের অংশটুকু ঠিকভাবে পালন করি, তাহলে ১০০ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব। অন্যথায় সিটি করপোরেশন যতই কাজ করুক, জনগণের অসচেতনতা সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে তা পরিবার, সমাজ ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। এতে বর্জ্য কমানো এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

আবদুস সালাম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসাইক্লিংয়ের দিকে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমানে যেখানে বর্জ্য ডাম্প করা হয়, সেখানে পরিবেশ এতটাই খারাপ যে স্থানীয় বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনের নাম শুনলেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে ওইসব এলাকায় মানুষের বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে, এমনকি জীবজন্তুর জন্যও পরিবেশ অনুকূল থাকে না।

তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মীদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে থাকে। নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের আয়ুও কমে যায়। এজন্য উন্নত দেশের মতো আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিক সচেতনতার পাশাপাশি পচনশীল ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা জরুরি। বাড়ি বাড়ি থেকে আলাদা করে বর্জ্য সংগ্রহ করা গেলে সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্জ্য পরিবহনের সময় স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ না করলে পথে বর্জ্য পড়ে থেকে পরিবেশ দূষণ বাড়ে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

আবদুস সালাম বলেন, বিভিন্ন কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কনজারভেন্সি কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও ডাম্পিং—সব ধাপে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি জানান, কম খরচে অলিগলিতে ছোট গাড়ি ব্যবহার করে বর্জ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশীয়ভাবে এসব যন্ত্রপাতি তৈরি করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, বিষয়টিকে সবাই গুরুত্ব সহকারে নিলে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে শূন্য বর্জ্য কর্মসূচি সফল হবে। “জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এই কর্মসূচি সফলতার মুখ দেখবে না। সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

ভিওডি বাংলা/খতিব/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে, উঠবে না সংসদে
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে, উঠবে না সংসদে
দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকারের স্ত্রীর জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী
দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকারের স্ত্রীর জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবস পালন ডিএসসিসির
আন্তর্জাতিক শূন্য বর্জ্য দিবস পালন ডিএসসিসির