সামান্য অটোরিকশার জন্য বন্ধু যখন খুনি

মানিকগঞ্জ সদর থানার কালিগঙ্গা নদী থেকে অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই। তারা নিহত অটোরিকশা চালকের বন্ধু। অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই গ্রেপ্তাররা অটোচালক বন্ধুকে গলা কেটে হত্যার পর মস্তকবিহীন মরদেহ নদীতে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে খুন করে ছিনিয়ে নেওয়া সেই অটোরিকশাটিও। ভিকটিমের মাথা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, গত ২৫ মার্চ আনুমানিক বিকেল ৫টায় মানিকগঞ্জ সদর থানার কালিগঙ্গা নদীতে অজ্ঞাতনামা পুরুষের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার হয়। সংবাদ পেয়ে পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন টিম ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে এবং ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। পিবিআই জানতে পারে, ভিকটিম ২৪ মার্চ বেলা ১০টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিচয় শনাক্তের পর ভিকটিমের ভাই মো. আরিফ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা (নং-২৫) করেন ২৬ মার্চ, তারিখ: ২৬/০৩/২০২৬ খ্রি., ধারা: ৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড।
পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৬ মার্চ দুপুর ২টা ৫ মিনিটে ঢাকার ধামরাই থানাধীন কালামপুর বাজার এলাকা থেকে আসামি রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের তথ্য ও দেখানো মতে ভিকটিমের অটোরিকশা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
পিবিআই তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম এবং গ্রেপ্তার এক আসামির মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন আসামিরা ভিকটিমের অটো ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে তাকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার লক্ষ্যে ভিকটিমের মাথা এবং দেহ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







