নেপালে ‘জেন জেড’ আন্দোলন দমন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার

নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-এর গ্রেপ্তার। ২০২৫ সালের বহুল আলোচিত ‘জেন জেড’ আন্দোলন দমনে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে ভক্তপুর জেলার গুন্ডু এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রাজধানী কাঠমান্ডুথেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেস নেতা রমেশ লেখাককেও তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে।
গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সংঘটিত ‘জেন জেড’ আন্দোলন নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সে সময় আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই তরুণ। ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিশন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।
নবগঠিত সরকারের নেতৃত্বে থাকা বলেন্দ্র শাহ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুত এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধান গুরুং বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া।”
বর্তমানে ওলি ও লেখাক-দুজনকেই কাঠমান্ডুর ভদ্রকালী এলাকায় জেলা পুলিশ সার্কেলে রাখা হয়েছে। শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় রোববার তাদের আদালতে তোলা হবে। তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৩ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
গ্রেপ্তারের পরপরই ওলিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল ললিতপুরে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার শুধু আইনি প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস
ভিওডি বাংলা/জা







