আমিরাতে বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

যথাযথ মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ ও গভীর দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রবাসের মাটিতে যেন একখণ্ড বাংলাদেশ জেগে উঠেছিল। রাজধানী আবুধাবি এবং বাণিজ্যিক নগরী দুবাইয়ের বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।দূতাবাসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
অন্যদিকে, দুবাই ও উত্তর আমিরাত অঞ্চলের প্রবাসীদের পদচারণায় মুখর ছিল বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রাঙ্গণ। কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের পর এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাতের সময় অনেক প্রবাসীর চোখে আবেগের অশ্রু দেখা যায়।
কনস্যুলেট মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় ১৯৭১-এর অগ্নিঝরা দিনগুলোর ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আপনারা কেবল রেমিট্যান্স যোদ্ধা নন, আপনারা বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের ঘামেই সচল থাকে দেশের চাকা।" তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
কাউন্সেলর (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান মো. আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দুবাই ও উত্তর আমিরাতের বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। প্রবাসীদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করার পাশাপাশি তারা প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের আরও জোরালো দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে উপস্থিত সকলকে মিষ্টি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।
ভিওডি বাংলা/মোহাম্মদ ইরফানুল ইসলাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত/জা







