• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

আকস্মাৎ দুঃসংবাদে দুশ্চিন্তা বাড়লো মালয়েশিয়া প্রবাসীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩০ পি.এম.
নতুন নীতিতে বেতনসীমা বাড়ায় মালয়েশিয়ায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে লাখো বাংলাদেশি কর্মী-ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশিসহ লাখো প্রবাসী শ্রমিকের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। দেশটির সরকার বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন নীতি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে বিদেশি কর্মীদের ‘এমপ্লয়মেন্ট পাস’ পেতে ন্যূনতম বেতনসীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই নতুন শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে নিয়োগকারীরা বিদেশি কর্মীর পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

সরকারের ২০২৫ সালের জাতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশের বেশি বিদেশি কর্মী। এই হার ২০৩৫ সালের মধ্যে কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ লাখ বৈধ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। এর বাইরে কয়েক লাখ অবৈধ শ্রমিকও রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর বড় একটি অংশ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী বিদেশি পেশাজীবীদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ এ ন্যূনতম মাসিক বেতন ২০ হাজার রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১০ হাজার রিঙ্গিত। এই শ্রেণির কর্মীরা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কাজের অনুমতি পাবেন।

ক্যাটাগরি-২ এ মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার থেকে ১৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত পর্যন্ত। এই শ্রেণির কর্মীদের জন্যও সর্বোচ্চ ১০ বছর অবস্থানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ক্যাটাগরি-৩ তে থাকা কর্মীদের ওপর। আগে যেখানে ৫ হাজার রিঙ্গিত বেতন হলেই চলত, এখন তা বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই শ্রেণির কর্মীদের অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে নিয়োগদাতাদের স্থানীয় কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির ফলে শুধু সাধারণ শ্রমিক নয়, মাঝারি ও দক্ষ পেশাজীবীরাও বড় চাপে পড়বেন। কারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) এত উচ্চ বেতন দিয়ে বিদেশি কর্মী ধরে রাখতে পারবে না।

এর আগে ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের ভিসা কার্যত বন্ধ রয়েছে। নতুন নীতি চালু হলে বর্তমানে কর্মরতদের অনেকেই চুক্তির মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।

রেমিট্যান্সের দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ চারটির একটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন।

এ অবস্থায় বিপুল সংখ্যক কর্মী দেশে ফিরে এলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও উচ্চ আয়ের চাকরির জন্য কর্মীদের প্রস্তুত করার ওপর জোর দিতে হবে।

অন্যথায়, মালয়েশিয়ার এই কঠোর নীতি বাস্তবায়নের ফলে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, প্রবাসী আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের শঙ্কা, সতর্ক আইএইএ
ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা: তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের শঙ্কা, সতর্ক আইএইএ
জাপানের হনশু দ্বীপে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প
জাপানের হনশু দ্বীপে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প
আলোচনায় না এলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে ইরান: ট্রাম্প
আলোচনায় না এলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে ইরান: ট্রাম্প