সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়েই দেশ স্বাধীন হয়েছে: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এমনি এমনি অর্জিত হয়নি; একটি সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়েই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ, পুলিশ বাহিনী এবং তরুণদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিল টি অ্যান্ড টি ক্লাবের পিছনে ৭১-এর ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত পুলিশ বীর শহীদদের সমাধি জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ২৫ তারিখের যে ক্র্যাকডাউন হয়েছিল, সে সময় আমাদের আশপাশে অবাঙালিদের বসবাসও ছিল। সেটাও আমাদের জন্য একটি হুমকি ছিল—যে কখন তারা পাক বাহিনীর সহযোগিতায় আমাদের ওপর আক্রমণ করে বসে। এটা সবসময় আমাদের ওপর একটি হুমকিস্বরূপ ছিল।
তিনি বলেন, আজকে এমন একটি জায়গায় আমরা উপস্থিত হয়েছি—৭১-এর স্মৃতিগুলো যদি রোমন্থন করতে হয়, তাহলে এরকম জায়গাতেই আসতে হবে। এখানে যখন আক্রমণ হয়, তখন আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। এই আশপাশের এলাকায়—পিএনটি কলোনি, টিএনটি কলোনি, এজিবি কলোনি, ফকিরাপুল, আরামবাগ, পল্টন—এই এলাকার আমরা যারা বসবাসকারী ছিলাম, আমরা সবাই আতঙ্কিত ছিলাম।
সেই সময় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কারণ সেই সময় পুলিশ ৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাক বাহিনীর হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। সেখানে অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে হতাহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পরে যখন তারা বের হয়ে যাচ্ছিল, তখন টিএনটি, পিএনটি ও এজিবি কলোনির দিক দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের এলাকার যুবকেরা—যারা পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে—সেই পুলিশ সদস্যদের আশ্রয় দেয়। তাদের কাপড় পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়। পুলিশের ড্রেস নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না, তাই তাদের লুঙ্গি, গামছা ও শার্ট দিয়ে সাহায্য করা হয়েছিল।
আবদুস সালাম বলেন, এখানে একটি পুকুর ছিল। সেই পুকুরে পুলিশের ড্রেসগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমার এখনো মনে পড়ে, এজিবি কলোনিতে আমার বন্ধু লেবু—যে আজ মারা গেছে—সেখানে এক পুলিশ সদস্য তার ড্রেস রেখে গিয়েছিলেন। পরে সেই ড্রেস এনে আমি ফকিরাপুলের আমাদের যে পুকুর ছিল, সেখানে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, সেই কারণে এখানে একজন, দুজন পুলিশ এবং একজন শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে দাফন করা হয়েছিল। এটা যে কত বড় ঝুঁকির ছিল, আজকে এখানে যারা তাদের দাফন করেছেন, সেটা কখনো পুরোপুরি বোঝানো যাবে না। এটাও ছিল একটি যুদ্ধের অংশ। নিজের জীবনের নিরাপত্তা ছিল না, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেই সময় এখানে তাদের কবর দেওয়া হয়েছিল।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, আরও অগণিত পুলিশ শহীদ হয়েছেন—অনেকে হয়তো কবরই পাননি। এমন পরিস্থিতি ছিল তখন। তাদের অনেককে পুলিশ লাইনের ভেতরে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আজ আমরা তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। পাশাপাশি এটাও বলব—স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো স্বাধীনতার যে স্বপ্ন, তা আমরা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আমরা বিশ্বাস করি, আপনারা দোয়া করবেন—যেমনিভাবে সেই সময় মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
ভিওডি বাংলা/এমএস







