{# Both bootstrap.min.css (190KB) and style.css (129KB) async-loaded via preload + onload swap. Inline critical CSS above covers above-the-fold. #} {# Third-party scripts: GA / ShareThis / Cloudflare on idle. AdSense is special — show_ads_impl_fy2021.js was eating 2.1s CPU, so it loads ONLY when an ad slot is near the viewport. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
পুলিশ পদক নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ বিভ্রান্তিকর: সদর দপ্তর ৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সেই নবদম্পতির জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ওয়ানস্টপ সেবা’ নিশ্চিত করবে সরকার: মাহদী আমিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে মোজতবা খামেনির বৈঠক, নতুন রণকৌশলের নির্দেশ মব কালচার বন্ধে আইন সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাংক খাত শৃঙ্খলায় রেজল্যুশন আইন প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে স্বল্পমূল্যে তেল-ডাল-চিনি বিক্রি শুরু সোমবার স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবি, স্টারমারকে দায়িত্ব ছাড়তে আল্টিমেটাম হাম ও উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

শ্রদ্ধার ফুলে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। লাল-সবুজের পতাকা আর ফুলের তোড়ায় ভরে ওঠে পুরো স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। এ যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার এক দৃপ্ত শপথ।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সমবেত হন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধের মূল শহীদ বেদি ফুলে ফুলে ঢেকে যায়, সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করছেন। কেউ দলবদ্ধভাবে, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ একা এসে নীরবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে। তবুও কারও মাঝে ক্লান্তি নেই; বরং সবার চোখেমুখে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার ছাপ।

এর আগে ভোর ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। এ সময় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়, যা পুরো পরিবেশকে আরও আবেগঘন করে তোলে।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতাসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দলীয় প্রধান হিসেবে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল অন্যান্য আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারা একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। একইভাবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নেতৃত্বে ইউজিসির সদস্য ও কর্মকর্তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ভোর সোয়া ৬টার দিকে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মৃতিসৌধ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, শিশু থেকে বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবী—সবাই একস্রোতে মিশে গিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পরও শ্রদ্ধা জানাতে কারও অনীহা নেই। অনেকেই মাথায় জাতীয় পতাকার ব্যান্ড পরে, হাতে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে এসেছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এসে এই গৌরবময় দিনটি স্মরণ করছেন।

চারপাশে দেশাত্মবোধক গানের সুর ভেসে আসছিল, যা পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ, যেন একখণ্ড লাল-সবুজের প্রান্তরে পরিণত হয় পুরো এলাকা। নানা বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি পায় এক ভিন্ন মাত্রা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকেই নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। কেউ কেউ স্বাধীনতার চেতনা ধরে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ উপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মূল্যবোধ বহন করার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে।

এদিন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে এবং স্মৃতিসৌধের মূল বেদি ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। সবার চোখেমুখে ছিল গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার ছাপ।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল দিনটির অন্যতম আকর্ষণ। লাল-সবুজ পোশাকে সজ্জিত শিশুদের হাতে ছোট ছোট জাতীয় পতাকা, মুখে উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক আশাব্যঞ্জক দৃশ্য। তাদের এই অংশগ্রহণ যেন নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের এক নতুন জাগরণের বার্তা বহন করছে।

ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মব কালচার বন্ধে আইন সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মব কালচার বন্ধে আইন সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
টেকসই ও নিরাপদ উপকূলীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি
পানিসম্পদ মন্ত্রী টেকসই ও নিরাপদ উপকূলীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি
নবম পে-স্কেলে বাড়ছে তিনটি বিশেষ ভাতা, পেনশনেও বড় পরিবর্তন
নবম পে-স্কেলে বাড়ছে তিনটি বিশেষ ভাতা, পেনশনেও বড় পরিবর্তন