ডিএসসিসি: জন্ম নিবন্ধনে ঘুষ দিতে হয় ১২০০ টাকা

জন্ম নিবন্ধনের মতো একটি মৌলিক নাগরিক সেবা নিতে হচ্ছে ঘুষ দিয়ে। দালাল না ধরলে হয়রানির অন্ত থাকে না। সরকার এই সেবার জন্য বয়সভেদে ২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করলেও গুনতে হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি ঘুষ দিতে হয়। নইলে ‘ইন্টারনেট সার্ভার’ সমস্যাসহ নানান অজুহাত দেখিয়ে নাগরিকদের দিনের পর দিন ঘুরান কর্মকর্তারা। আর দালালের মাধ্যমে টাকা দিলে দুই ঘণ্টায় হাতে পাওয়া যায় জন্ম নিবন্ধন সনদ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল–৫ কার্যালয় ঘুরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পেয়েছে ভিওডি বাংলা।
সিটি করপোরেশনটির আরও একাধিক আঞ্চলিক কার্যালয়ে হয়রানি, দালালের দৌরাত্ম্য ও বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভিওডি বাংলার হাতে এ বিষয়ক একটি ভিডিও এসেছে—যাতে দেখা যাচ্ছে, অঞ্চল–৫ কার্যালয়ের জন্ম-মৃত্যু সনদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার কাউসার আহমেদের সঙ্গে তার কক্ষে খোশগল্প করছেন নীল পাঞ্জাবি পরিহিত রিংকু নামের এক দালাল। ওই কর্মকর্তার ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ওই কক্ষের কম্পিউটারে কাজ করছেন আরিফ নামের একজন। সেও এই দপ্তরের কেউ নয়। তারা জন্ম নিবন্ধন বিষয়ক দালাল। তাদের কাছে টাকা দিলে দ্রুত পাওয়া যায় জন্ম নিবন্ধন সনদ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে দালালরাই সরকারি সার্ভারের আইডি-পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করে দিচ্ছে। আর সেই সুযোগে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি টাকা।
জন্ম নিবন্ধন করতে আসা স্থানীয় রেদওয়ানা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধন করতে এসেছিলাম, কিন্তু তারা অনেক টাকা চায়।
৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শামীম অভিযোগ করেন, এখানে দালালদের সিন্ডিকেট আছে। তাদের মাধ্যমে কাগজ না দিলে জন্ম নিবন্ধন হয় না। তাদেরকে কাগজ আর ঘুষের টাকা একসঙ্গে দিলে জন্ম নিবন্ধনের কাগজ দ্রুত পাওয়া যায়।
আরেক তরুণ জানান, তার পরিবারের তিনজনের জন্ম নিবন্ধনের জন্য নেওয়া হয়েছে তিন হাজার টাকা, যেখানে সরকারি ফি মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে।
এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অঞ্চল–৫ কার্যালয়ের কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ সেখান থেকে দ্রুত সরে যান। তবে পরবর্তীতে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে কাউসার আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের দুর্নীতির কারণে একদিকে সিটি কর্পোরেশনের সেবা ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন ঢাকার নাগরিকরা।
এ অবস্থায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার দাবি তুলেছেন রাজধানীর নাগরিকরা।
প্রসঙ্গত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে জন্ম নিবন্ধনের ফি বয়সের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত নিবন্ধন ফ্রি। ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ও ১৫% ভ্যাট। ৫ বছর পার হলে ৫০ টাকা ও ১৫% ভ্যাট এবং জন্ম সনদ সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা ফি প্রযোজ্য।
ভিওডি বাংলা/আরআর/আরকেএইচ/এমএস







